ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরান সমান মর্যাদার ভিত্তিতে যেকোনো সংলাপ ও কূটনৈতিক আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে কোনো ধরনের শক্তি বা হুমকির ভাষা তেহরান মেনে নেবে না। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘আমরা কখনো মাথা নত করব না, হাঁটু গেড়ে বসব না।’
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। পেজেশকিয়ান উল্লেখ করেন যে, শত্রুরা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছে যে চাপ দিয়ে ইরানকে নতিস্বীকার করানো অসম্ভব। তার দেশ ইতিহাসে কখনো আগ্রাসী ভূমিকা নেয়নি বা কোনো যুদ্ধের সূচনা করেনি, বরং সবসময়ই শান্তির জন্য আলোচনার টেবিলে বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনার প্রসঙ্গ টেনে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, “যখন আপনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষা করেন, তখন তারা সেটিকে ‘সন্ত্রাসবাদ’ এবং ‘অঞ্চলের অনিরাপত্তা সৃষ্টি’ বলে আখ্যায়িত করে।” তিনি আরও যোগ করেন, ‘ট্রাম্পের ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার এই হুমকি ইরানি জাতিকে আরও ঐক্যবদ্ধ করে তোলে এবং ইরান আগ্রাসীদের এ জন্য অনুতপ্ত হতে বাধ্য করবে।’
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলে কেউই এককভাবে নিরাপদ থাকবে না। হয় আমরা সবাই মিলে নিরাপত্তা গড়ে তুলব, নয়তো সবাই মিলে নিরাপত্তাহীনতার শিকার হব।’
পেজেশকিয়ান আরও জানান, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে না, তবে তারা ‘পারমাণবিক বিজ্ঞান’ এবং ‘শান্তিপূর্ণ প্রযুক্তি’ ত্যাগ করবে না। শান্তিপূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে তেহরান সরে আসবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, এর আগে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) একই অধিবেশনে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রেখেছে। পাশাপাশি আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি হতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন।

















