রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে আবার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে গেছে। একই সঙ্গে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম লিটারে ২ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও কল্যাণপুর নতুন বাজারে খোঁজ নিয়ে এই পরিস্থিতির কথা জানা গেছে। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, কোম্পানিগুলো বাজারে পর্যাপ্ত তেল ছাড়ছে না। ডিলারদের মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন যে কোম্পানিগুলো তেলের দাম বাড়াতে চায়, যার ফলে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা দোকানগুলোতে চাহিদামতো এক, দুই ও পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না। মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের অন্তত ছয়টি দোকানে মাত্র চার-পাঁচটি করে বোতল দেখা গেছে। অনেক দোকানি চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় তেল আড়ালে রেখে বিক্রি করছেন। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের মুদি বিক্রেতা ইমাম পাটোয়ারি জানান, নিয়মিত গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে ডিলারের থেকে পাওয়া সীমিত পরিমাণ তেল তিনি আলাদা করে সংরক্ষণ করছেন।
টিসিবি-এর তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে ১৯০-১৯৫ টাকা এবং পাম তেলের দাম শূন্য দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়ে ১৭০-১৭৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। চলতি বছর এই নিয়ে তিন দফায় বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট তৈরি হলো। এর আগে ফেব্রুয়ারি ও জুলাই মাসেও একই পরিস্থিতি দেখা দিয়েছিল। সর্বশেষ ৩ সেপ্টেম্বর প্রতি লিটার তেলের দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
বর্তমানে ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো তেলের দাম আরেক দফা বাড়াতে চাচ্ছে। এ বিষয়ে গত ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড ভেজিটেবল ফ্যাট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বাণিজ্যসচিবকে চিঠি দিয়েছে। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বুধবার সিলেটে জানিয়েছেন, সরকার যাচাই-বাছাই ছাড়া ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর অনুমতি দেবে না।
তেলের পাশাপাশি বাজারে অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও চড়া। গত এক সপ্তাহে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা বেড়ে ১৫৫-১৬০ টাকায় পৌঁছেছে। পাড়া-মহল্লার দোকানে প্রতি হালি ডিম ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গত দুই মাস ধরে ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকার কাছাকাছি রয়েছে। মাছের বাজারেও বাড়তি দাম অব্যাহত রয়েছে; রুই মাছ ৩৮০-৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০-৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০-২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২৫০-২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। নিত্যপণ্যের এই উচ্চমূল্যে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
আর ডিমের দাম ১৬০ টাকা ডজন হয়ে গেছে।আনসার হোসেন, নিরাপত্তারক্ষী, শেখেরটেক.বিক্রেতারা বলছেন, বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি, তবে তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
এরপর এপ্রিলের শেষ দিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা করা হয়।

















