কৃষ্ণসাগরে রোমানিয়ার জলসীমায় শস্যবাহী একটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় রাশিয়ার ড্রোন হামলাকে দায়ী করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সোমবার জাহাজটিতে আগুন ধরে যাওয়ার পর সেটি সাগরে ডুবে যায়। রোমানিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন এবং ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন যে, নিরপেক্ষ জলসীমায় অবস্থানরত তুরস্কের মালিকানাধীন ভুট্টাবাহী একটি বেসামরিক জাহাজে দুটি রুশ ড্রোন দিয়ে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে।
রোমানিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য জাহাজটিতে আগুন লাগার নির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত করেনি। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ১১টার দিকে রোমানিয়ার ‘এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে’ থাকা জাহাজটিতে আগুন লাগার খবর পায় কোস্টগার্ড। জাহাজটিতে আজারবাইজান ও ভারতের নাগরিকরা ছিলেন বলে জানা গেছে। আগুন লাগার পরপরই উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের এই অভিযোগ সত্য হলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হতে পারে। এর আগেও রোমানিয়াসহ ন্যাটোর বেশ কিছু সদস্যদেশ তাদের আকাশসীমা ও ভূখণ্ডের আশেপাশে অনুপ্রবেশের অভিযোগ করেছে। মে মাসে একটি রুশ ড্রোন রোমানিয়ার আবাসিক ভবনে আঘাত হানে, জুনে ইউক্রেনের একটি সামুদ্রিক ড্রোন কনস্তানৎসা বন্দরে বিস্ফোরিত হয় এবং জুলাই মাসে রোমানিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তিনটি ড্রোন প্রতিহত করার পর বুখারেস্ট রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিল।
পূর্ব ইউরোপের আকাশসীমায় রুশ ড্রোনের এসব অনুপ্রবেশকে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। লাটভিয়া, পোল্যান্ড এবং মলদোভাতেও সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোন সংক্রান্ত নানা নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এদিকে, রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কৃষ্ণসাগরে ভেসে থাকা নয়টি সমুদ্র মাইন তাদের নৌবাহিনী ধ্বংস করেছে।

















