বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ অর্থায়ন প্যাকেজের সুবিধা যাতে প্রকৃত উদ্যোক্তারা পায়, তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। গত শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সিলেটে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভায় সিলেটের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের আঞ্চলিক প্রধান, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতৃবৃন্দ, নারী উদ্যোক্তা এবং কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
গভর্নর জানান, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি, বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা পুনরায় সচল করা এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি সঞ্চারের লক্ষ্যে এই বিশেষ অর্থায়ন প্যাকেজটি ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংক ঋণের সাধারণ সুদের হার ১২ থেকে ১৪ শতাংশ হওয়ায় ব্যবসায়ীদের ওপর যে বড় চাপ তৈরি হয়েছে, তা লাঘব করতে এই প্যাকেজের আওতায় ৪ থেকে ৮ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হবে। তিনি জানান, ৬০ হাজার কোটি টাকার এই তহবিলের মধ্যে ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে এবং ৪১ হাজার কোটি টাকা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে জোগান দেওয়া হবে।
তহবিলের বরাদ্দের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে গভর্নর বলেন, প্যাকেজের বড় একটি অংশ অর্থাৎ ২০ হাজার কোটি টাকা বন্ধ শিল্প পুনর্গঠনে ব্যয় করা হবে। এছাড়া কৃষি ও পল্লী অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ১০ হাজার কোটি টাকা এবং বেকার যুবকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ১০ হাজার কোটি টাকার কৃষি পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র খামারিরা প্রচলিত জমির জামানতের পরিবর্তে বিকল্প জামানত ব্যবহার করে সহজে ঋণ নিতে পারবেন।
তরুণদের মূল ধারায় যুক্ত করতে গত নভেম্বর থেকে একটি নতুন প্রকল্প শুরু হয়েছে বলে জানান গভর্নর। এই প্রকল্পের আওতায় দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে মোট ৫ হাজার তরুণকে বাছাই করে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ব্যাংক বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থাকবে না বলেও তিনি নিশ্চয়তা প্রদান করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট অফিসের নির্বাহী পরিচালক খালেদ আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভার শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ব্যাংকিং রেগুলেশন পলিসি বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তপাদার মূল উপস্থাপনা প্রদান করেন।

















