বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী অভিযোগ করেছেন যে, বিগত ১৭ বছরে এমপি ও মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, এই দীর্ঘ সময়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাংলাদেশকে পুনরুদ্ধার করতে হবে এবং তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে মুক্ত করতে হবে। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ, গাছের চারা বিতরণ ও আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাদক প্রতিরোধে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে নিপুন রায় চৌধুরী বলেন, মসজিদে বয়ান রাখার সময় ইমামদের মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক বক্তব্য রাখতে হবে, যাতে প্রতিটি পরিবার মাদকের কুফল সম্পর্কে জানতে পারে। পাশাপাশি মন্দিরে পুরোহিতদেরও মানুষকে মাদকের বিষয়ে সচেতন করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে কেবল সচেতনতা বৃদ্ধি যথেষ্ট নয়, বরং তরুণ বেকারদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা অপরিহার্য। সরকার প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ তৈরির যে পরিকল্পনা নিয়েছে, তা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, খেলাধুলায় মনোযোগী হলে যুব সমাজের মধ্যে হতাশাগ্রস্ত হওয়ার প্রবণতা হ্রাস পাবে। এছাড়া তিনি বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি নতুন নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা তৈরির ওপরও জোর দেন।
ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশীষ বিন হাছান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সহ-সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রথীন্দ্র নাথ রায়। জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও অসচ্ছল ব্যক্তিদের মাঝে প্রায় ১ কোটি ৪৮ লাখ ৪০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার চেক ও গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

















