সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেয়া শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার রাত সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত এই বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচনের পূর্বে জাতীয় সরকার নিয়ে বিএনপির দেয়া প্রতিশ্রুতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জোট নেতাদের স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সরকার ৩১ দফা কর্মসূচি এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারকে হটিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। গত ১৫-১৬ বছর ধরে যারা বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে রাজপথে ছিলেন, তাদের সঙ্গে নিয়ে এই আন্দোলনকে আরও বেগবান ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন। মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সংগ্রামের এই পথচলায় যারা কারাবরণ করেছেন, মামলার শিকার হয়েছেন কিংবা গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন, তাদের অবদানের কথা দেশ চিরকাল মনে রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং তাদের অবদানের স্বীকৃতি দেন। মির্জা ফখরুল জানান, গত পাঁচ মাসে কাজের অগ্রাধিকার ও তাড়াহুড়োর কারণে সব দলের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব না হলেও, বর্তমান সরকার জনগণের কাছাকাছি যাওয়ার কাজ শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি, লুট হওয়া ব্যাংক এবং ভেঙে পড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, এখন থেকে তিনি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবেন।
৩১ দফা কর্মসূচি ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, এই কর্মসূচিগুলো অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি জানান, এ বিষয়ে এখন আলোচনার প্রয়োজন নেই, তবে যেকোনো বিষয়ে পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, সমমনা জাতীয়তাবাদী জোট, গণতান্ত্রিক বাম জোট ও ইসলামী দলসহ মোট ৪১টি দলের নেতারা এই বৈঠকে অংশ নেন।

















