অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়কে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে দেখা গেছে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। ছুটির দিনে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের বড় একটি অংশই ছিলেন বাংলাদেশি। কেউ স্থানীয় বাসিন্দা, আবার কেউ সিডনি বা ব্রিসবেন থেকে এসেছেন প্রিয় দলের খেলা দেখতে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে পেরে প্রবাসীরা নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করছেন।
অস্ট্রেলিয়ায় ডেটা সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করা আল মাশরুক ভূঁইয়া বলেন, দেড় বছর ধরে এখানে থাকলেও দেশের আবেগ এভাবে সামনাসামনি দেখার সুযোগ আগে হয়নি। তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়াকে দেশের মাটিতে হারানোর আত্মবিশ্বাস এখানেও দেখা গেছে, যা তাদের জন্য অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। সিডনি থেকে আসা সরুদ্দিন নামের এক দর্শক জানান, খেলার ফলাফল নিশ্চিত করতে তিনি নিজের ফিরতি ফ্লাইট বাতিল করেছেন। জয়ের আনন্দ নিয়ে তবেই সিডনি ফিরবেন বলে তিনি জানিয়েছিলেন।
ডারউইনের সিআইএম ইনস্টিটিউটে অধ্যয়নরত চট্টগ্রামের জিসান জানালেন, অনেক দিন পর বাংলাদেশের এমন পারফরম্যান্স দেখে তারা গর্বিত। এমনকি স্থানীয় অস্ট্রেলিয়ানরাও বাংলাদেশের দলের প্রশংসা করছেন। ১৯৯৯ সাল থেকে ডারউইনে বসবাসরত সদরুদ্দিনের পরিবার ২০০৩ ও ২০০৮ সালের পর আবারও মাঠে বসে খেলা উপভোগ করেছেন। সদরুদ্দিনের স্ত্রী জানান, ২৩ বছর পর ডারউইনের মাঠে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ দেখা তাদের জন্য এক বড় প্রাপ্তি। অনেক প্রবাসীই এই জয়কে ঈদের দিনের মতো আনন্দের বলে অভিহিত করেছেন।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার সমর্থকদের জন্য দিনটি ছিল হতাশার। মারারা স্টেডিয়ামের প্রিমিয়াম এক্সপেরিয়েন্স লাউঞ্জ, যা সাধারণত ক্রিকেট কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মুখর থাকে, তা ছিল সম্পূর্ণ ফাঁকা। আয়োজকরা জানিয়েছিলেন, টেস্ট ম্যাচটি যে চতুর্থ দিন পর্যন্ত গড়াবে, তা কেউ আশা করেনি। তাই চতুর্থ দিনের জন্য কোনো টিকিট বিক্রি হয়নি এবং লাউঞ্জটিও বন্ধ রাখা হয়েছিল।
ম্যাচ শেষে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের হতাশাগ্রস্ত অবস্থায় মাঠ ছাড়তে দেখা গেলেও, বাংলাদেশ দলের সদস্যরা জয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে একযোগে ছবি তোলার ব্যস্ততায় মেতেছিলেন। এই জয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য যেমন এক অমূল্য স্মৃতির উপলক্ষ হয়ে রইল, তেমনি বাংলাদেশ দলের জন্যও তা এক অবিস্মরণীয় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হবে।

















