আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. নূরুল করিম পদত্যাগ করেছেন। গত রবিবার তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রে নূরুল করিম উল্লেখ করেছেন যে, ব্যক্তিগত অসুবিধার কারণে তিনি আর সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে ইচ্ছুক নন। তাই তিনি পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে পদত্যাগপত্র দাখিল করেছেন এবং এটি গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।
এর আগে গত ৩০ জুলাই সরকার নতুন করে ১৭৯ জনকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেয়। একই দিনে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আগের সব ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগ বাতিল করেছিল। সেই নতুন নিয়োগ তালিকায় নূরুল করিমের নাম ছিল ১১৪ নম্বরে।
এই নতুন নিয়োগের পর থেকেই পদবঞ্চিত আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গত ২ আগস্ট এবং পরবর্তীতে ৩ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, নতুন নিয়োগে যোগ্যতার চেয়ে অর্থনৈতিক লেনদেন ও বিশেষ সুবিধাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের একটি অংশ নতুন নিয়োগ পাওয়া ১১৩ জন আইন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে তাদের অপসারণের দাবি জানায়।
এমন পরিস্থিতিতেই নূরুল করিমের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠে। যদিও তার বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের সপক্ষে কোনো নির্দিষ্ট দলীয় পদ বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া যায়নি। তবে তার পদত্যাগপত্রে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কোনো উল্লেখ নেই, বরং ব্যক্তিগত অসুবিধার কথাই বলা হয়েছে। নূরুল করিমের এই পদত্যাগের মাধ্যমে নতুন আইন কর্মকর্তাদের নিয়োগপ্রক্রিয়া ও তাদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে চলমান বিতর্ক নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

















