ফুলবাড়ী গণঅভ্যুত্থানের ২০তম বার্ষিকীতে ঝিনাইদহে উন্মুক্ত কয়লাখনি বিরোধী ৬ দফা চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১০টায় তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ঝিনাইদহ জেলা শাখার উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিল শেষে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ স্মৃতি সৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ফুলবাড়ীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, বিগত ২০ বছরে রাষ্ট্র পরিচালনাকারী সরকারগুলো প্রাণ-প্রকৃতি, জীব-বৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্যের চেয়ে মুনাফাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে, যা দেশে মহাবিপর্যয় ডেকে এনেছে। উন্নয়নের নামে সাধারণ মানুষ আজ মানবেতর জীবনযাপন করছে। ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট ফুলবাড়ী আন্দোলনে সরকারি বাহিনীর গুলিতে আমিন, সালেকিন ও তরিকুলসহ তিনজন নিহত এবং দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিলেন। সেই আত্মত্যাগের বিনিময়েই মানুষ তাদের বসতভিটা ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করেছিল।
বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘ ২০ বছরেও ঐতিহাসিক ৬ দফা ফুলবাড়ী চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমান সরকার ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাই তারা অবিলম্বে এই চুক্তি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। এছাড়া ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ফুলবাড়ী আন্দোলনের নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। রামপালসহ জাতীয় স্বার্থবিরোধী সকল প্রকল্প বাতিল করে সর্বজনের স্বার্থে রাষ্ট্র সংস্কারের কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার আহ্বানও জানান নেতৃবৃন্দ।
উক্ত কর্মসূচিতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ঝিনাইদহ জেলা সাধারণ সম্পাদক কমরেড আবু তোয়াব অপু, সহকারী সাধারণ সম্পাদক সুজন বিপ্লব, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য তোফাজ্জেল হোসেন লস্কর ও আরিফুল ইসলাম মিটুল বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ জেলা আহ্বায়ক অ্যাড. আসাদুল ইসলাম আসাদ, জেলা নেতা আসাদুর রহমান, শারমিন সুলতানা এবং বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ জেলা সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল এনাম পল্লবসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উন্মুক্ত কয়লাখনি বিরোধী ফুলবাড়ী দিবসের ২০তম বার্ষিকীতে বিভিন্ন স্লোগানে ফুলবাড়ী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিক্ষোভ মিছিল শেষে ফুলবাড়ী শহীদ স্মরণে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সংলগ্ন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ স্মৃতি সৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি, ঝিনাইদহ জেলা শাখা।
আয়োজিত কর্মসূচি থেকে নেতৃবৃন্দ বলেন, বসতভিটা, জল, জমি, মানুষ ও জীবন রক্ষা এবং প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠন প্রতিরোধের ২০ বছরে রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা সরকারগুলো (২০০৬-২০২৬) প্রাণ প্রকৃতি, জীব-বৈচিত্র্য, জনস্বাস্থ্য গুরুত্ব না দেওয়ায় মহাবিপর্যয় দেখা দিয়েছে। উন্নয়নের নামে কতিপয় মানুষের মুনাফার নির্মম শিকার আজ দেশবাসী। কাজ হারিয়ে, খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা সংকটে মানুষ মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। এত কিছুর পরেও থেমে নেই সম্পদ লুণ্ঠন ও দুর্নীতির।

















