মিয়ানমার তাদের দেশে বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে’ ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও পুনরায় রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয় ও অস্তিত্ব অস্বীকার করেছে। মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ নাগরিককে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতির মধ্যে গত বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে।
মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে একই বিবৃতিতে দেশটি রোহিঙ্গাদের বিষয়ে তাদের পুরনো অবস্থানেই অনড় থাকার কথা জানিয়েছে। মিয়ানমার দাবি করছে, ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি এমন একটি জাতিগত পরিচয়কে নির্দেশ করে, যার কোনো অস্তিত্ব মিয়ানমারের ইতিহাসে কখনো ছিল না। এছাড়া বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন দেশে পালিত ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস’-এর কঠোর সমালোচনা ও নিন্দা জানিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়া ও মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা চলছে এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ রয়েছে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা আশঙ্কা করছে যে, মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হলে রোহিঙ্গারা পুনরায় নিপীড়নের শিকার হতে পারেন। এর আগে গত জুলাই মাসে মালয়েশিয়া জানিয়েছিল যে, ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সম্মত হয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংস বৈষম্য ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। তবে প্রথম দফায় সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিয়ানমারের নাগরিককে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে, যদিও এই তালিকায় কতজন রোহিঙ্গা রয়েছেন তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছেন, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শরণার্থী বসতি। দীর্ঘ আলোচনার পরও তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি লাভ করেনি। অন্যদিকে মালয়েশিয়াতেও প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছেন। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বরাবরই দাবি করে আসছে যে, রোহিঙ্গারা স্বতন্ত্র কোনো জনগোষ্ঠী নয়, বরং তারা বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অভিবাসীদের বংশধর। এই কারণেই দেশটি ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটির ব্যবহারও অস্বীকার করে আসছে।

















