আদালতের মালখানা ও থানা এলাকায় জব্দ অবস্থায় থাকা মালামাল সংরক্ষণের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রবর্তনে ১২ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ প্রদান করেন। আদালত কমিটিকে আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছে। আইনসচিবের প্রতি এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জব্দ করা মালামাল সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে প্রায় চার বছর আগে মোহাম্মদ নোয়াব আলীসহ পাঁচ আইনজীবী একটি রিট আবেদন করেছিলেন। সেই রিটের প্রাথমিক শুনানির ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের ৩০ আগস্ট হাইকোর্ট রুলসহ জব্দ করা মালামাল ও যানবাহন কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়, তা জানিয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন করে এই কমিটি গঠনের আদেশ এলো।
রিট আবেদনকারীদের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন ও যায়েদ বিন আমজাদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওসমান চৌধুরী।
আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের নেতৃত্বে গঠিত এই ১২ সদস্যের কমিটিতে থাকবেন পুলিশের আইজিপি মনোনীত একজন পুলিশ সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মনোনীত অধস্তন আদালতের একজন বিচারক, বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন প্রতিনিধি, তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের একজন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের মনোনীত দুজন কর্মকর্তা। এছাড়া কমিটিতে থাকবেন রিট আবেদনকারীর আইনজীবী ও তাঁর একজন প্রতিনিধি, ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর, বিজিবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মনোনীত একজন করে প্রতিনিধি।
শিশির মনির আরও জানান, জব্দ করা মালামাল দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দেশের সব থানা বরাবর পুলিশের মহাপরিদর্শককে সার্কুলার জারি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জিম্মায় থাকা গাড়ি ও অন্যান্য জব্দকৃত দ্রব্যাদি দ্রুত নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে দেশের সব অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের প্রতি সার্কুলার জারি করতে বলা হয়েছে।

















