দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর পুনরায় জাপানের রাজধানী টোকিওগামী নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে দেশের পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এই রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালু হওয়ায় দুই দেশের মধ্যকার ব্যবসায়িক সম্পর্ক, পর্যটন খাত এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের যাতায়াত ব্যবস্থা আরও সহজ ও গতিশীল হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঢাকা-নারিতা রুটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আজকের এই ঢাকা-নারিতা ফ্লাইট আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে পেরে তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন। মন্ত্রী আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এবার রুটটি লাভজনক হবে এবং ইতোমধ্যে উদ্বোধনী ফ্লাইটের পাশাপাশি ফিরতি ও পরবর্তী ফ্লাইটগুলোর বুকিংও সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতে এই রুট আর বন্ধ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, জাপানপ্রবাসী প্রায় ৪৫ হাজার বাংলাদেশি ছাত্র, শ্রমিক ও অভিবাসীদের কথা বিবেচনা করেই এই ফ্লাইট চালু করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে চাহিদার কথা মাথায় রেখে শুধু বোয়িং নয়, বিমান বহরে এয়ারবাসের উড়োজাহাজও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে এই রুট আর কখনোই বন্ধ না হয়। প্রতিমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, ১৯৮০ সালে উড়োজাহাজ স্বল্পতা থাকা সত্ত্বেও তিনি ঢাকা-নারিতা ফ্লাইট চালু করেছিলেন। আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে এই রুটটি পুনরায় চালু করা হলো।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের ১ জুলাই ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। প্রায় এক বছর পর ২৭ জুলাই রাত ২টা ২৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি৩৭৬ ফ্লাইটটি জাপানের উদ্দেশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। উদ্বোধনের আগে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী জাপানগামী যাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ফিতা কেটে ফ্লাইটের শুভ সূচনা করেন।

















