ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে সুইডেন সফরের জন্য মনোনীত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পাঁচ কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণ বাতিল করা হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সামাজিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এই প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সরকার বিভাগ সফরটি বাতিলের উদ্যোগ নেয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব (সিটি করপোরেশন-১) মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম রোববার রাতে এই সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সফরটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত নথিপত্র চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত ২৩ জুলাই বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল যে, রোলার চালানোর প্রশিক্ষণ নেওয়ার নামে মন্ত্রীর একান্ত সচিবসহ মন্ত্রণালয়ের ও চসিকের পাঁচ কর্মকর্তা সুইডেন যাচ্ছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে ২৫ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত এই সফরের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। গত ৬ জুলাই মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত আদেশে সফরকারী দলে ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, চসিক সচিব আশরাফুল আমিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জসীম উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মুহাম্মদ ইমরান হোছাইন খোকা।
চসিক সূত্রে জানা যায়, মেসার্স সরকার কবির আহমেদ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে পাঁচটি ডাবল ড্রাম রোড রোলার সরবরাহ করে, যা গত ১১ মার্চ চসিকের স্টকে জমা হয়। যন্ত্রপাতি বুঝিয়ে দেওয়ার চার মাস পর কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশ পাঠানোর সিদ্ধান্তে নানা প্রশ্ন ওঠে। চুক্তি অনুযায়ী, রোলার সরবরাহের সাত দিনের মধ্যে স্থানীয়ভাবে একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও চালকদের প্রশিক্ষণের কথা ছিল, যার ১৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা ব্যয়ভার ঠিকাদারের বহন করার কথা। আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের টাকায় সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ নীতিবহির্ভূত এবং এটি স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest) তৈরি করে। উল্লেখ্য, এর আগেও মশা নিধনের ওপর প্রশিক্ষণের নামে ঠিকাদারের অর্থায়নে চসিক কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্র সফরের আয়োজন করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বাতিল করা হয়।

















