পাবনার সাঁথিয়া পৌর এলাকার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদে জুমার নামাজে ইমামতি করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার জুমার জামাত শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে মসজিদের ভেতরেই এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পাবনা-১ (সাঁথিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এবং জামায়াত নেতা প্রয়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন গত ১৭ জুলাই শুক্রবার ওই মসজিদে ইমামতি করতে চেয়েছিলেন। তবে বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের বাধার মুখে সেদিন তা সম্ভব হয়নি। আজ শুক্রবার পুনরায় তিনি নামাজ পড়াতে এলে খুতবা শুরুর মুহূর্তে বিএনপি কর্মীরা আবারও বাধা প্রদান করেন। এ সময় জামায়াত-শিবির সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপি কর্মীদের ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মসজিদের নির্ধারিত ইমামের ইমামতিতেই জুমার নামাজ সম্পন্ন হয়।
সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি মো. করিমের অভিযোগ, এমপি নাজিবুর রহমান মোমেন গত শুক্রবারের মতো আজও নিজের প্রভাব বিস্তারের জন্য দলবল নিয়ে মসজিদে উপস্থিত হন। তিনি ইমামের কাছ থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নিয়ে বক্তব্য দেন এবং খুতবা পাঠের ঘোষণা দিলে স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানান। এ সময় জামায়াত-শিবির ও এনসিপি কর্মীরা তাদের ওপর চড়াও হয়ে ধাক্কাধাক্কি ও কিল-ঘুষি মারে বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয়দের আমন্ত্রণে ও দাবির মুখেই তিনি সেখানে নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন। তার দাবি, বিএনপি কর্মীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে সেখানে ঝামেলা সৃষ্টি করেছে। তিনি আরও বলেন, গোপীনাথপুর এলাকার বিএনপি নেতা করিম ও সিরাজসহ বহিরাগতরা এসে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মারধর করেছে এবং নামাজ শেষে তার এক কর্মীর দোকানে লুটপাট ও হামলা চালিয়েছে। তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
ওসি আনিসুর রহমান জানান, এমপিকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা থাকায় আগে থেকেই পুলিশ মোতায়েন ছিল। এরপরও নামাজের আগ মুহূর্তে মসজিদের ভেতরে কথা কাটাকাটি ও হালকা ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

















