স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন কিছু অযোগ্যতা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভা শেষে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য জানান। সকাল ১১টা থেকে বিকেল পৌনে ৬টা পর্যন্ত চলা এই সভায় চার নির্বাচন কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কমিশন সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে ঋণখেলাপির গ্যারান্টার, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি ও ভূমি করসহ সরকারি সেবার বিলখেলাপিরা স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা কর্ণধারের প্রতিষ্ঠানের নামে বকেয়া থাকলেও তা অযোগ্যতার কারণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষক, লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তি এবং দ্বৈত নাগরিকদেরও নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার বিষয়ে কমিশন নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইসি সচিব জানান, সিটি করপোরেশন, উপজেলা, ইউনিয়ন, পৌরসভা এবং জেলা পরিষদ—এই পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার আইনের কিছু অংশ স্ট্রিমলাইন করার লক্ষ্যে কমিশন আলোচনা করেছে। এর অংশ হিসেবে সব আইনের ভেতর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে সশস্ত্র বাহিনীকেও অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি রয়েছে।
আইন সংশোধনের বিষয়ে আখতার আহমেদ বলেন, এটি একটি আইনগত প্রক্রিয়া। কমিশন গৃহীত প্রস্তাবগুলো স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে পাঠানো হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগ যদি প্রস্তাবগুলো উপযুক্ত মনে করে, তবে তারা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন আচরণ বিধিমালাও সংশোধন করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। যত দ্রুত সম্ভব এই প্রস্তাবগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে বলেও জানিয়েছেন ইসি সচিব।
জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, বর্তমানে ১৬ বছর ও তদুর্ধ্ব বয়সীদের ডাটা সংগ্রহ করা হয় এবং ১৮ বছর পূর্ণ হলে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকাভুক্ত হন। ডাটা সংগ্রহের এই প্রক্রিয়াটি কোন স্তর পর্যন্ত নামিয়ে আনা যায়, তা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। অষ্টম শ্রেণি নাকি প্রাথমিক পর্যায় থেকে এই তথ্য সংগ্রহ শুরু করা হবে, সে বিষয়ে তুলনামূলক বিশ্লেষণের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

















