অক্টোবর মাস থেকে স্থানীয় সরকার পর্যায়ের নির্বাচন অনুষ্ঠানের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, কখন কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তা সরকারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সোমবার বিকালে নির্বাচন ভবনে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) আয়োজিত ফল উৎসবে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ইসি কমিশনার মাছউদ জানান, স্থানীয় সরকারের সীমানা নির্ধারণ ও এ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে হবে। এই জটিলতা দ্রুত সমাধানের জন্য সরকারকে চিঠি দেওয়া হবে এবং একইসঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের তালিকার বিষয়েও অনুরোধ জানানো হবে। তিনি বলেন, বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন ধাপে ধাপে শুরু করা অধিক যৌক্তিক। সব ধরনের নির্বাচন (সিটি, পৌর, উপজেলা, জেলা ও ইউপি) একসঙ্গে আয়োজন করা সম্ভব নয়। সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তফসিল ঘোষণা করা হবে।
নির্বাচন কমিশনার আরও ব্যাখ্যা করেন যে, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন না হলে উপজেলা পরিষদ গঠন করা সম্ভব হয় না, কারণ পৌরসভা ও ইউপি সদস্যরা পদাধিকারবলে উপজেলা পরিষদের সদস্য থাকেন। তাই এগুলোর নির্বাচন আগে করা প্রয়োজন। সিটি করপোরেশনগুলো বর্তমানে প্রশাসক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে, যা কিছুটা ভিন্ন। নির্বাচন কমিশন ভোটের অন্তত ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়ে রাখবে। তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সরকারের সঙ্গে লিখিত ও অলিখিত বোঝাপড়া থাকা জরুরি, কারণ এতে ব্যাপক লোকবলের সম্পৃক্ততা থাকে।
অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সংসদে কথা বলছেন এবং কমিশন ইতোমধ্যে নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আগামী সপ্তাহ থেকে ইসি সচিব নিয়মিতভাবে এ বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য প্রদান করবেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, তাহমিদ আহমদ এবং ইসি সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

















