ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর তিনজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ধুলজোড়া ব্রিজ এলাকায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে এ সংঘর্ষ চলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মান্নান মাতুব্বর এবং পাশের সালথা উপজেলার খাড়দিয়া গ্রামের মুশফিক বিল্লাহ জিহাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে গত শনিবার জিহাদপন্থি সোলায়মান মাতুব্বর বাজারে গেলে তার ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে মান্নান মাতুব্বরের লোকজনের বিরুদ্ধে। এতে সোলায়মান গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত সোলায়মানকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এর কিছুক্ষণ পর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপরও হামলা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে জিহাদও গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এরই জেরে রোববার বিকেলে মান্নান মাতুব্বরের লোকজন পরমেশ্বরদী গ্রামের ছরোয়ার খাঁর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় বাড়ি থেকে পাট ও পেঁয়াজ লুট করে নেওয়ারও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। পরে খাড়দিয়া গ্রামের হুমায়ন খাঁ, রফিক মোল্যা ও ইলিয়াস কাজীর নেতৃত্বে একদল লোকের সঙ্গে মান্নান মাতুব্বরের পক্ষের লোকজনের ধুলজোড়া ব্রিজ এলাকায় সংঘর্ষ বাধে। দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে পরমেশ্বরদী গ্রামের বাচ্চু মোল্যার ছেলে কবির মোল্যা, হাশেম মোল্যার ছেলে কামরুল মোল্যা ও মনসুর মোল্যার ছেলে লোকমান মোল্যাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ছাড়া অনেকে বোয়ালমারীসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইজাজ আহমেদ শাওন বলেন, সন্ধ্যার পর বেশ কয়েকজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

















