আইন ও আদালত

সাবেক রাষ্ট্রপতির বিচার নিয়ে আইনজীবীদের ভিন্নমত

প্রতিবেদক
বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন নীতিমালা ২০২৬ জারি বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন নীতিমালা ২০২৬ জারি সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে আলাদা তদন্তে যাচ্ছে না বাংলাদেশ ব্যাংক সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে আলাদা তদন্তে যাচ্ছে না বাংলাদেশ ব্যাংক সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে আলাদা অনুসন্ধান করবে না বাংলাদেশ ব্যাংক সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে আলাদা অনুসন্ধান করবে না বাংলাদেশ ব্যাংক চা শিল্পের উন্নয়নে সব ধরনের সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী চা শিল্পের উন্নয়নে সব ধরনের সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী টুথপেস্টে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক: তিন-চতুর্থাংশ পণ্যে ক্ষতিকর কণা টুথপেস্টে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক: তিন-চতুর্থাংশ পণ্যে ক্ষতিকর কণা ১৮ মন্ত্রীর এসকর্ট প্রত্যাহার: নেপথ্যে জ্বালানি সাশ্রয় ও প্রটোকল কমানোর সিদ্ধান্ত ১৮ মন্ত্রীর এসকর্ট প্রত্যাহার: নেপথ্যে জ্বালানি সাশ্রয় ও প্রটোকল কমানোর সিদ্ধান্ত আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২৩ দিন বন্ধ আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২৩ দিন বন্ধ তিস্তার ভাঙন রোধে রংপুরে পাউবো কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ তিস্তার ভাঙন রোধে রংপুরে পাউবো কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ কানাডায় দেড় বছর, প্রবাসজীবন নিয়ে মুখ খুললেন ডলি সায়ন্তনী কানাডায় দেড় বছর, প্রবাসজীবন নিয়ে মুখ খুললেন ডলি সায়ন্তনী কাউন্সিলর একরাম হত্যায় বদির সুপরিকল্পিত ছক ছিল: চিফ প্রসিকিউটর কাউন্সিলর একরাম হত্যায় বদির সুপরিকল্পিত ছক ছিল: চিফ প্রসিকিউটর
সব খবর

দেশের বিশিষ্ট কয়েকজন আইনজীবী মনে করেন, সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ব্যক্তিগত কোনো অপরাধ করে থাকলে সে বিষয়ে মামলা দায়ের, অনুসন্ধান, তদন্ত ও বিচারে কোনো বাধা নেই। তাদের মতে, রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে ও পরে তার যেকোনো ফৌজদারি ও দেওয়ানি অপরাধের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে। আইনজীবীরা বলছেন, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি হিসাবে তার মেয়াদকালের কর্মকাণ্ডকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে এ পদে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের বাইরে যদি তিনি ব্যক্তিগত অপরাধ করে থাকেন, তাহলে সেই অপরাধের বিচার হতে পারে। তারা উদাহরণ হিসেবে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জেল খাটার প্রসঙ্গ সামনে আনেন। আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ পদত্যাগের পর তাকে কারাগারে যেতে হয়েছিল এবং দুর্নীতির মামলায় দণ্ডও হয়েছিল। দেশের প্রখ্যাত কয়েকজন আইনজীবী শনিবার যুগান্তরের কাছে তাদের এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

অন্যদিকে, পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভিন্ন কথা বলেছেন। তিনি সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি করেন। শনিবার তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘কিসের বিচার করবে? আমি কি অপরাধ করেছি। আমাকে হেয় করার জন্য এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে।’

গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে শুক্রবার বিকাল ৫টা ১ মিনিটে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। তার বিরুদ্ধে ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনারসহ বিভিন্ন দায়িত্বে থাকাবস্থায় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারকে রক্ষার চেষ্টা, ব্যাংক খাতের লুটপাট ও দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়া এবং জুলাই অভ্যুত্থানে গণহত্যায় সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় তার বিচারের দাবি করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন।

এদিকে, সদ্য পদত্যাগী সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। মামলা থাকলে সেগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিনা, তাও দেখা হবে বলে জানান তিনি। শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে মানবাধিকারবিষয়ক পরামর্শ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংবিধান অনুযায়ী তার ৫ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের ২৩ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ২ বছর আগেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে শুক্রবার তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতিকে দুই ধরনের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। ৫১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বা অনুরূপ বিবেচনায় কোনো কাজ করলে বা কোনো কাজের ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় থাকলে, সেটির জন্য কোনো আদালতে তার জবাবদিহি থাকবে না। তবে এই সুরক্ষা সরকারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা সৃষ্টি করে না। সংবিধানের ৫১(২) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালীন আলাদা সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে আসীন রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যধারা দায়ের করা বা চালু রাখা যাবে না। একই সঙ্গে তার গ্রেফতার বা কারাবাসের জন্য কোনো পরোয়ানা জারি করা নিষিদ্ধ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ৫১(২) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালীন কর্মকাণ্ডের কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে পূর্ণ দায়মুক্তি দেয় না। দুর্নীতি, ফৌজদারি অপরাধ বা রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগের কোনো অপরাধ এই সুরক্ষার আওতায় পড়ে না। ফলে সাবেক রাষ্ট্রপতিকেও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা সম্ভব। সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংসদ-সদস্য জয়নুল আবেদীন বলেন, ৫১ অনুচ্ছেদ সব কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে পূর্ণ দায়মুক্তি দেয় না। দাপ্তরিক দায়িত্বের বাইরের কাজ, দুর্নীতি, ফৌজদারি অপরাধ বা রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগের কোনো অপরাধ এই সুরক্ষার আওতায় পড়ে না। ফলে দাপ্তরিক সীমার বাইরে থাকা কাজের জন্য সাবেক রাষ্ট্রপতিকেও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, সংবিধানে রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালীন সময়ের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু পদে থাকার আগে এবং পরে সংঘটিত কোনো অপরাধের কথা উল্লেখ নেই। অতএব, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে কোনো বাধা দেখছি না।

তবে সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্নার মতে, সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগের পর বিভিন্ন অভিযোগ এনে তার বিচার চাওয়া হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যখন সাহাবুদ্দিন অপরাধ সংঘটিত করেছিলেন, তখন আনা হলো না কেন। তিনি বলেন, সংবিধানের ৫১ ধারা মোতাবেক তিনি দায়মুক্তি পেতে পারেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার দাবি মেনে পদত্যাগ করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ক্ষমতা ছাড়ার পরপরই কারাবরণ করতে হয় দীর্ঘ ৯ বছর ক্ষমতায় থাকা প্রতাপশালী এ নেতাকে। ক্ষমতা ছাড়ার পর বিশেষ আইনে গ্রেফতার করা হয় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে। তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। জনতা টাওয়ার দুর্নীতি ও প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা পৃথক মামলায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। এছাড়া বিভিন্ন মামলায় তিনি টানা ৬ বছর কারাবন্দি ছিলেন।

সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে-বিচারক থাকাকালে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা বিতর্ক। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হওয়ার পর তিনি বিস্তর দুর্নাম কুড়ান। সমাজের হাইপ্রোফাইল দুর্নীতিবাজদের তিনি অনুসন্ধানের নামে আইওয়াশ করে তাদের ক্লিন পেপার দিয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি ওই সময় এতটাই প্রভাবশালী ছিলেন যে কমিশনার হয়েও দুদক চেয়ারম্যানের চেয়ে বেশি ক্ষমতাবান ছিলেন। এর অন্যতম কারণ ছিল-তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অতি আস্থাভাজন ছিলেন। যে কোনো সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন। দুদকের দায়িত্ব পালনের পর তিনি বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকা দুটি ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত হন। মূলত দুদকের কমিশনার থাকাকালীন সাহাবুদ্দিন এস আলম গ্রুপকে একচেটিয়া সুবিধা দেন।

অভিযোগ আছে, ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুদকের কমিশনার থাকাকালে সাহাবুদ্দিনসহ কমিশনের চার কর্মকর্তা খাদ্য অধিদপ্তরের পরিদর্শক নিয়োগে দুর্নীতির একটি মামলা ধামাচাপা দিতে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের শাহবাগ থানায় ২০১৪ সালের ৭ অক্টোবর করা ৭নং মামলার ক্ষেত্রে এই ঘুষ গ্রহণের ঘটনা ঘটে। পরে মামলাটির অধিকতর তদন্তে সাহাবুদ্দিনসহ অপর ৩ জনের ঘুষ গ্রহণের স্পষ্ট প্রমাণ পান তদন্ত কর্মকর্তা। তদন্তে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের সুস্পষ্ট প্রমাণ উঠে আসার পরও তাকে আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেনি দুর্নীতি দমন কমিশন। এছাড়া পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি-ষড়যন্ত্রের অভিযোগ নিয়ে দুদকের তদন্তে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ প্রকল্প নিয়ে শুরুতে কোনো প্রকার ‘দুর্নীতি পরিকল্পনা’ হয়নি বলে তিনি ক্লিন পেপার দিয়ে দেন। পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের উত্থাপন করা গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে সাহাবুদ্দিন সরকারকে সুরক্ষা দেন বলে একাধিকবার তিনি গণমাধ্যমের কাছে গর্ব করে বক্তব্যও দেন।

২০১২ সালে পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতি-ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। কিন্তু ২০১৪ সালে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে মামলাটি শেষ করে দেওয়া হয়। তখনকার দুদক কর্মকর্তারা বলেন, অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সাহাবুদ্দিনও পরে বিভিন্ন সময় দাবি করেন, বিশ্বব্যাংকের চাপে মামলাটি করা হয়েছিল এবং তদন্তে দুর্নীতির প্রমাণ মেলেনি। গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুদক মামলাটি আবার অনুসন্ধান শুরু করে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে দুদকের তৎকালীন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেন, পদ্মা সেতুর পরামর্শক নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার অভিযোগ ছিল, তৎকালীন দুদক চেয়ারম্যান এম বদিউজ্জামান ও কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন তদন্তটি ধামাচাপা দিয়েছিলেন। তবে এ অভিযোগ এখনো বিচারিকভাবে প্রমাণিত নয়।

সাহাবুদ্দিন দুদকের কমিশনার থাকার সময় বেসিক ব্যাংকের আলোচিত ঋণ কেলেঙ্কারির তদন্ত নিয়েও সংস্থাটি প্রশ্নের মুখে পড়েছিল। ২০১৫ সালে প্রায় ২ হাজার ৩৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৫৬টি মামলা করা হলেও ব্যাংকটির তৎকালীন চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু ও পরিচালনা পর্ষদের কাউকে আসামি করা হয়নি। অথচ ব্যাংকটির ঋণ অনুমোদনের চূড়ান্ত ক্ষমতা ছিল পর্ষদের হাতে। ৮ বছর পর ২০২৩ সালে দুদক ৫৯ মামলার মধ্যে ৫৮টির অভিযোগপত্রে বাচ্চুকে আসামি করে। পরে তদন্ত কর্মকর্তারা আদালতকে জানান, তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপের কারণে পরিচালকদের আসামি করা যায়নি।

দুদকের দায়িত্ব ছাড়ার পর সাহাবুদ্দিন ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে যোগ দেন। ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তিনি ইসলামী ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান হন। একই গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকা এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেন। রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ থেকে পদত্যাগ করেন। এতেই বোঝা যায়, দুদকে বসে তিনি এস আলমের সব অপকর্ম জায়েজ করেন। এক কথায়, তিনি ছিলেন এস আলমের রক্ষাকবচ।

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার জালিয়াতিতে মো. সাহাবুদ্দিন ও তার কোম্পানি জেএমসি বিল্ডার্স জড়িত ছিল। জেএমসি বিল্ডার্স বিতর্কিত ব্যবসায়ী ও হাসিনা আমলের অর্থ পাচারের অলিগার্ক এস আলমের মালিকানাধীন কোম্পানি হলেও শেয়ারের অধিকারী ছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। এ বিষয়ে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যানসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। বিচারপতি মুজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ অনুসন্ধান ও তদন্তের নির্দেশনা দিয়েছেন। শনিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে।

দুদক আইনের ৯ ধারায় বলা আছে, কমিশনের চেয়ারম্যান বা কমিশনার দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোনো লাভজনক পদে নিয়োগের যোগ্য হবেন না। এই বিধানের কারণে দুদকের সাবেক কমিশনার সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি হতে পারেন কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক ওঠে। তাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দুটি রিটও করা হয়। হাইকোর্ট রিট দুটি খারিজ করে বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ প্রজাতন্ত্রের কর্মে লাভজনক পদ নয় এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন, অন্য সরকারি কর্মচারীদের মতো নিয়োগ পান না। আপিল বিভাগও হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন।

বিশ্বের অন্য দেশে দৃষ্টান্ত : ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ উদ্যোগ এবং এর পরবর্তী ঘটনাবলির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের ৭ বছরের কারাদণ্ড বহাল রাখেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। ২০২৬ সালের ৯ জুলাই দেওয়া রায়ে আদালত এই দণ্ড বহাল রাখেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির আগে ইউন মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ আলোচনা বাধাগ্রস্ত করতে ভূমিকা রাখেন। এছাড়া তিনি প্রধানমন্ত্রীর জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করেন। এমনকি সংসদ সামরিক আইন বাতিল করার পর নিজের গ্রেফতার ঠেকাতে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদেরও ব্যবহার করেন।

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন নীতিমালা ২০২৬ জারি বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন নীতিমালা ২০২৬ জারি সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে আলাদা তদন্তে যাচ্ছে না বাংলাদেশ ব্যাংক সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে আলাদা তদন্তে যাচ্ছে না বাংলাদেশ ব্যাংক সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে আলাদা অনুসন্ধান করবে না বাংলাদেশ ব্যাংক সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে আলাদা অনুসন্ধান করবে না বাংলাদেশ ব্যাংক চা শিল্পের উন্নয়নে সব ধরনের সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী চা শিল্পের উন্নয়নে সব ধরনের সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী টুথপেস্টে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক: তিন-চতুর্থাংশ পণ্যে ক্ষতিকর কণা টুথপেস্টে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক: তিন-চতুর্থাংশ পণ্যে ক্ষতিকর কণা ১৮ মন্ত্রীর এসকর্ট প্রত্যাহার: নেপথ্যে জ্বালানি সাশ্রয় ও প্রটোকল কমানোর সিদ্ধান্ত ১৮ মন্ত্রীর এসকর্ট প্রত্যাহার: নেপথ্যে জ্বালানি সাশ্রয় ও প্রটোকল কমানোর সিদ্ধান্ত আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২৩ দিন বন্ধ আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২৩ দিন বন্ধ তিস্তার ভাঙন রোধে রংপুরে পাউবো কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ তিস্তার ভাঙন রোধে রংপুরে পাউবো কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ কানাডায় দেড় বছর, প্রবাসজীবন নিয়ে মুখ খুললেন ডলি সায়ন্তনী কানাডায় দেড় বছর, প্রবাসজীবন নিয়ে মুখ খুললেন ডলি সায়ন্তনী কাউন্সিলর একরাম হত্যায় বদির সুপরিকল্পিত ছক ছিল: চিফ প্রসিকিউটর কাউন্সিলর একরাম হত্যায় বদির সুপরিকল্পিত ছক ছিল: চিফ প্রসিকিউটর
সব খবর