বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম এবং সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিল্পোন্নত সাত দেশের জোট জি-৭। শুক্রবার (২ অক্টোবর) জি-৭ নেতাদের ভার্চুয়াল বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সমন্বয়ে আগামী চার মাস ধরে পর্যায়ক্রমে এই জ্বালানি বাজারে ছাড়া হবে। তবে মোট ১০ কোটি ব্যারেলের মধ্যে অপরিশোধিত তেল ও ডিজেলের সুনির্দিষ্ট অনুপাত কত হবে, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি। প্রথম ২০ দিনের মধ্যেই বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে জোটটির।
জি-৭ জোটের এই সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোকে জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার জন্য ক্রমাগত চাপ দিয়ে আসছিলেন। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে—এমন আশঙ্কায় ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, কারণ তারা ডিজেল সরবরাহের জন্য অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল।
জি-৭-এর সদস্য দেশগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও জাপান। জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জ্বালানি মজুত ছাড়ার কার্যক্রম অবিলম্বে শুরু হবে। প্রয়োজনে আইইএর কাঠামোর আওতায় আরও ডিজেল ছাড়ার বিষয়ে আলোচনার সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে জি-৭ নেতারা সদস্য দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি ও জ্বালানি পণ্য রপ্তানিতে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জি-৭ দেশগুলোর শোধনাগারগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সমন্বয়ের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, যেখানে সম্ভব শোধনাগারের উৎপাদন সক্ষমতা সাময়িকভাবে বাড়ানোর বিষয়েও ঐকমত্যে পৌঁছেছে জোটটি। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জি-৭-এর এই নতুন সিদ্ধান্তটি গত মার্চ মাসে আইইএ সদস্য দেশগুলোর সমন্বিতভাবে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তা বিবেচনায় রেখেই বাস্তবায়ন করা হবে।

















