দেশজুড়ে টানা বর্ষণ, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা, জলাবদ্ধতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার, ত্রাণ ও আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা জোরদার করেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের ১৯টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে নিরাপদে চলাচল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন বুধবার অনুষ্ঠিতব্য সব এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদিকে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেলপথে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পাহাড়তলী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁঞা জানিয়েছেন, ট্র্যাক নিরাপদ ঘোষণা করা হলে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হবে। এছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনটি ফ্লাইট অবতরণ করতে পারেনি।
টানা বৃষ্টিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা—বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে পাহাড়ধস, আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়েছে। কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মসজিদুল কুবা মহিলা মাদরাসা ও হেফজখানায় পাহাড়ধসের ঘটনায় ৮ শিশু নিহত এবং ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। কক্সবাজারের নিচু এলাকা ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দুর্যোগ মোকাবিলায় অতিরিক্ত স্বেচ্ছাসেবক ও জরুরি সেবা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রাঙামাটিতে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং খাগড়াছড়িতেও পাহাড়ি ছড়ার পানি বাড়ায় যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। ময়মনসিংহ অঞ্চলের নদ-নদী এবং তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় থাকায় আগামী কয়েক দিন দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। জনসাধারণকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

















