দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক বলয়ে বিভক্ত থাকা কওমি ধারার ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোকে এক ছাতার নিচে আনার উদ্যোগ নিয়েছে অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কওমি অঙ্গনের দলগুলোর ত্রিমুখী বিভাজন কেবল রাজনৈতিক দূরত্বই বাড়ায়নি, বরং মাদ্রাসা পরিচালনা ও আলেমদের পারস্পরিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছে হেফাজতের শীর্ষ নেতৃত্ব। এই বাস্তবতায় কওমি ধারার সাতটি নিবন্ধিত দলকে নিয়ে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রাথমিক ঐকমত্য তৈরি হয়েছে।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই উদ্যোগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, খেলাফত আন্দোলন এবং ইসলামী ঐক্যজোটের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। হেফাজত নেতারা জানিয়েছেন, প্রতিটি দলকে আগস্টের শুরুতে নিজ নিজ ফোরামে আলোচনার পর লিখিত প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই ঐক্যের কাঠামো ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হবে।
হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মীর ইদ্রিস জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক বলয়ে যোগ দেওয়ায় তৃণমূলে যে কাদা ছোড়াছুড়ির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিরসনই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বৈঠকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের পক্ষ থেকে জামায়াতের রাজনৈতিক বলয় থেকে বেরিয়ে আসার প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিপরীতে অন্য দলগুলো জমিয়তকেও বিএনপির বলয় ছাড়ার শর্ত দেয়। জমিয়ত প্রতিনিধিরা অবশ্য জানিয়েছেন, অন্য দলগুলো জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করলে তারাও বিএনপির সঙ্গে নিজেদের অবস্থান নতুন করে ভাবতে প্রস্তুত।
যদিও বৈঠকে অংশ নেওয়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ অন্যান্য নেতারা নতুন কোনো জোট গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা অস্বীকার করেছেন। তারা এটিকে কওমি দলগুলোর মধ্যে বিদ্যমান দূরত্ব কমানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তবে হেফাজতের এক প্রভাবশালী নেতার মতে, রাজনৈতিক বাস্তবতায় কওমি আলেমদের আদর্শিক জায়গা থেকে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা বিভ্রান্তি তৈরি করেছে, যা কাটিয়ে উঠতেই এই পুনর্গঠনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাতটি ভিন্ন রাজনৈতিক স্বার্থ ও কৌশলের দলগুলোকে একটি প্ল্যাটফর্মে আনা বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে এই উদ্যোগ সফল হলে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন বাস্তবতার সৃষ্টি হতে পারে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, যেকোনো ইসলামি দলের নতুন জোট গঠনের উদ্যোগকে তারা সবসময় স্বাগত জানান।

















