দেশের বর্তমান অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতির নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শনিবার রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) আয়োজিত জাতীয় আন্তবিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতিবিষয়ক প্রতিযোগিতা ‘ইকোনথন ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জানান, মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
দেশের অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলোর কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, জিডিপির অনুপাতে কর আদায় বাড়াতে হবে এবং ব্যাংক খাতে হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। এছাড়া বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার কথা বলতে গিয়ে আমীর খসরু জানান, বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে পড়েছে এবং গত দশকের তুলনায় অর্থায়নের ব্যয় অনেক বেশি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সংরক্ষণবাদ ও শুল্কবাধা বৃদ্ধি, ভূরাজনৈতিক সংঘাতের ফলে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ের অস্থিতিশীলতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব দেশের অর্থনীতির ওপর সরাসরি পড়ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর ও রপ্তানিমুখী অর্থনীতির ক্ষেত্রে টাকার বিনিময় হার, পণ্যের দাম এবং কারখানাগুলোর রপ্তানি আদেশে এর স্পষ্ট প্রভাব দৃশ্যমান।
নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার জটিলতা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি দিনই একটি ‘সারপ্রাইজ এলিমেন্ট’ নিয়ে আসে। বাজেটের প্রাক্কলন অনেক সময় জ্বালানি তেলের দাম, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, বন্যা বা বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সীমিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে জবাবদিহিতা বজায় রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থনীতিকে প্রস্তুত করতে হবে। রপ্তানি বাণিজ্যকে কেবল সুবিধার ওপর নির্ভর না রেখে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য এখন সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, করব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর ও সহজ করা এবং বেসরকারি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, একদিনে সব ঠিক করা সম্ভব নয়, তবে এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার অবিচল থাকবে। পরিশেষে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, চাপের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং যুক্তি দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করা নীতিনির্ধারণী দক্ষতার অংশ।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) আয়োজিত জাতীয় আন্তবিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতিবিষয়ক প্রতিযোগিতা ‘ইকোনথন ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

















