সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নতুন আরেকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এর আগে সোমবার রাতে এক তরুণীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিল। এর মধ্যেই মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নতুন এই ভিডিওটি সামনে আসে।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি নজরুল ইসলাম এবং ওই তরুণীর কক্ষে প্রবেশ করে তাদের ধরে ফেলেন। এ সময় তাদের একজন ওই কক্ষ থেকে জাতীয় সংসদের একটি আইডি কার্ড হাতে নিয়ে প্রদর্শন করেন, যেখানে ‘G. M. Nazrul Islam’ এবং ‘Member of Parliament’ লেখা রয়েছে। ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি উপস্থিত নজরুল ইসলাম ও তরুণীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘জামায়াতের লোক। দেখেন, সাতক্ষীরা জামায়াতের লোক এখানে ধরা খেয়েছে।’ ভিডিওতে তরুণীকে নাম জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি নাম বলতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাকে থানায় দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তরুণী বলেন, ‘সব ডিলিট করে দেন, তাহলে সব বলছি। আমার নাম মরিয়ম। নাম বললেও যা হবে, না বললেও তাই হবে। আপনারা এটা নিয়ে ঝামেলা করবেন জানি, তাহলে এসব জিজ্ঞাসা করছেন কেন?’
ঘটনার প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এমপি নজরুল ইসলাম পুরো ঘটনাটিকে পরিকল্পিত সাজানো নাটক, চাঁদা দাবি এবং ব্ল্যাকমেইলিং বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, ভিডিওতে দৃশ্যমান ১৮ বছর বয়সী মরিয়ম বেগম তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী। গত ১৩ জুলাই রাজধানীর মগবাজারে এই ঘটনা ঘটেছিল।
এমপি নজরুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তার চালক ওবায়দুল্লাহ সরাসরি তার কাছে ৫ লাখ টাকা এবং শ্বশুরের কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে চালক ওবায়দুল্লাহ সিসিটিভি ফুটেজ এডিট করে এই বিভ্রান্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন। এটি একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ বলেও তিনি বিবৃতিতে উল্লেখ করেন।

















