নবম জাতীয় পে-স্কেলের পূর্ণ বাস্তবায়নের প্রতীক্ষা আরও দীর্ঘায়িত হলো। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো নির্ধারণ সংক্রান্ত সুপারিশমালা এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি সচিব কমিটি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এ বিষয়ে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। পরবর্তী সপ্তাহে কমিটি আবারও বৈঠকে বসবে বলে জানা গেছে।
অর্থ বিভাগের সূত্রমতে, বৈঠকে পে-স্কেল বাস্তবায়নের নানা প্রতিবন্ধকতা, সরকারের বর্তমান আর্থিক সংকট এবং বাস্তবায়নের ধাপসহ বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এই কমিটি সরকারকে একটি সুপারিশমালা প্রদান করবে, যার ভিত্তিতেই নতুন পে-স্কেল ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে। ২১ লাখ সরকারি চাকরিজীবীর জন্য এই বেতন কাঠামো প্রথম ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধি এবং পরবর্তী দুই ধাপে অন্যান্য সুবিধাদি প্রদানের মাধ্যমে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার কথা, তবে গেজেট প্রকাশের জন্য সরকারি চাকরিজীবীদের আরও অপেক্ষা করতে হবে।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও দেশের আর্থিক সংকটের কারণে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। গত ১২ জুলাই ঢাকা সফররত আইএমএফ প্রতিনিধিদল অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, অর্থের সংস্থান নিশ্চিত না করে বেতন বাড়ালে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও প্রকট হতে পারে।
অর্থ বিভাগের সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার জানিয়েছেন, কমিটি তাদের কাজ করছে এবং তাদের সুপারিশ পাওয়ার পরই সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। এদিকে, বর্তমান সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়নে আন্তরিকতা দেখালেও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় কিছু কাটছাঁট করার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে নতুন পে-স্কেলের আংশিক বাস্তবায়ন ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সুবিধাসহ বিভিন্ন সমন্বয়ের জন্য প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। সেই সুপারিশে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব ছিল। বর্তমান সরকার সেই সুপারিশ হুবহু গ্রহণ না করে রাজস্ব, মূল্যস্ফীতি ও বাজেট ঘাটতি বিবেচনায় নতুন খসড়া তৈরির কাজ করছে। নতুন কাঠামোয় ২০তম গ্রেডের বেতন ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা এবং প্রথম গ্রেডের বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা চলছে।

















