প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজকের শিশুরা যদি আগামী দিনে নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারে, তবেই ভবিষ্যতে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত কিশোর-কিশোরীদের বৃহৎ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
উপস্থিত শিশু-কিশোর ও খেলোয়াড়দের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার কাজ করছি। কিন্তু এই কাজটি তখনই সফল হবে, যখন তোমরা নিজেদের আগামী দিনের উপযোগী করে তুলবে। এখন পড়ার সময় মন দিয়ে পড়তে হবে এবং একইভাবে মন দিয়ে খেলতে হবে। তিনি আরও বলেন, ছোট্ট বন্ধুরা, তোমাদের দিকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তাকিয়ে আছে। আমরা হয়তো কাজ শুরু করেছি, কিন্তু এই দেশ গড়ার কাজ তোমাদেরই এগিয়ে নিতে হবে। প্যান্ডেল ও গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার শিশুদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের সফল ডাক্তার, প্রকৌশলী, স্থপতি, আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার, সাঁতারু ও টেনিস খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন।
শিশুদের কাছে পরিবেশ রক্ষার সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশটা আমাদের সবার। বাসার আশেপাশে বা রাস্তা দিয়ে চলার সময় ময়লা বা প্লাস্টিকের বোতল দেখলে তা কুড়িয়ে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। পুকুর বা নদীতে কেউ ময়লা ফেললে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে তা পরিষ্কার করার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া প্রতিবছর বাড়ির বা স্কুলের আশেপাশে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি। প্রকৃতির প্রতি দয়াশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কুকুর, বিড়াল, হাঁস, মুরগি বা গরু-ছাগলের মতো পশুপাখির যত্ন নিতে হবে এবং তাদের কোনো ক্ষতি করা যাবে না।
বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত সমস্যার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে নিরলস কাজ করছে। শিশুরা পড়ালেখা, খেলাধুলা, গান বা ছবি আঁকা—যে ক্ষেত্রেই নিজেদের বিকশিত করতে চায়, সরকার তাতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। সবশেষে উপস্থিত সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীলদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংবাদের পাশাপাশি শিশুদের এই আয়োজন ও তাদের সাফল্যকে যেন আগামীকালের সংবাদপত্রে লিড নিউজ হিসেবে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রচার করা হয়।

















