গত ১৬ জুলাই সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক বিশেষ আয়োজনে অংশ নেন দেশের ১৮টি জেলার ১৬টি জাতিগোষ্ঠীর ৫৯ জন প্রতিনিধি। সমতলের আদিবাসীদের একমাত্র সংসদ সদস্য আন্না মিনজ দিদির অনুরোধে আয়োজিত এই সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশগ্রহণ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পাশে ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নৃগোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমি এই ঢাকা শহরে আছি ১৯৮৬ সাল থেকে। সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে চাই।’
সভায় প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে নাগরিক হিসেবে সমতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, সবার ভাষা ও সংস্কৃতি ভিন্ন হলেও নাগরিক হিসেবে সবাই সমান। তিনি বৈষম্যহীনভাবে সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। উপস্থিত প্রতিনিধিরা জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এভাবে নিজেদের কথা সরাসরি বলার সুযোগ তাদের জীবনে এই প্রথম। সভার শেষে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে উপস্থিত ৮ জন প্রতিনিধির সাথে ছবি তোলেন এবং সেলফিতে অংশ নেন। কুলাউড়ার মুরইছড়ার খাসিয়া নারী ফ্লোরা তালাং জানান, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছিলেন ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে, সেই প্রধানমন্ত্রী তাকে বোন সম্বোধন করে গ্রামের স্কুলের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
আদিবাসী প্রতিনিধিরা সরকারের কাছে সাতটি লিখিত দাবি তুলে ধরেন। তারা প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, সরকার একটি ঐক্যবদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতি গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে সমতলের আদিবাসীদের সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা, স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় গঠন, ভূমি কমিশন গঠন, তরুণ ও নারীদের আত্মকর্মসংস্থানে সহায়তা, উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি প্রদান এবং ভাষা ও সংস্কৃতি বিকাশে একাডেমি স্থাপন। এছাড়া ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ শব্দের পরিবর্তে ‘বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী’ বা ‘আদিবাসী’ শব্দ ব্যবহারের প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে সবার কথা শুনেছেন এবং নোট নিয়েছেন। তিনি ভূমি সমস্যার জটিলতা ও প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ধাপে ধাপে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন, এই বৈঠকের মাধ্যমে সরকার ও রাষ্ট্রে আদিবাসী মানুষের জন্য একটি প্রকৃত ঠিকানা তৈরি হবে, যেখানে তারা বঞ্চনার দিন পেরিয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে এগিয়ে যেতে পারবে।

















