ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে মার্কিন সেনা হত্যার জন্য ইরানকে ‘বহুগুণ মূল্য’ দিতে হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, যতবার ইরান আমেরিকান সেনাকে হত্যা করবে, ততবারই তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে। ট্রাম্প জানান, এ বিষয়ে তার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল কেইনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে পেন্টাগনকে ঠিক কী ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৭ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের হামলায় দুজন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া মার্চ মাসে কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবাতে একটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলায় আরও ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হন। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, চলমান এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৩০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, জর্ডানে প্রাণঘাতী হামলার আগেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার মোতায়েন শুরু করেছিল। গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুসহ বেশ কিছু স্থাপনাকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করেন। এর মধ্যে খার্গ দ্বীপের তেল স্থাপনা এবং মাটির গভীরে থাকা পারমাণবিক স্থাপনাগুলোও রয়েছে। হরমুজ প্রণালী সচল রাখার কৌশলের অংশ হিসেবেই মার্কিন হামলাগুলো ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে বড় কোনো সামরিক অভিযানের আগে তাদের দুর্বল করা যায়।
এদিকে ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের সাবেক প্রধান জো কেন্ট বর্তমান পরিস্থিতির ওপর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, ব্যাপক প্রাণহানির আগেই সৈন্যদের সরিয়ে নেওয়া উচিত এবং উত্তেজনা বৃদ্ধির এই ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।

















