পাবনা-২ (সাঁথিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিলের সমালোচনা করে বলেছেন, এই বিলের মূল কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বৃহস্পতিবার বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বিলটির ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, যথাযথ প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহির ব্যবস্থা না রেখে কেবল নাম পরিবর্তন করলে কোনো উদ্দেশ্যই সফল হবে না। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, ২০১৪ সালের মে মাসে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনার পর তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া র্যাবকে ‘কিলিং স্কোয়াড’ হিসেবে অভিহিত করে বাহিনীটি বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালেও তিনি র্যাবকে ‘ক্যানসার’ আখ্যা দিয়ে বিলুপ্তির দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন। এই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিএনপি পুলিশ সংস্কার কমিশনের কাছে র্যাব বিলুপ্তির আনুষ্ঠানিক সুপারিশ করে। এ ছাড়া সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও চিফ হুইপও একই দাবি জানিয়েছিলেন। রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং গুম কমিশনও র্যাব বিলুপ্তির পক্ষে সুপারিশ করেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, প্রস্তাবিত এসআরবি বিলে র্যাবের জনবল, কার্যালয়, ক্ষমতা, নথিপত্র, সম্পদ, চুক্তি এবং যাবতীয় দায়-দায়িত্ব সরাসরি নতুন এই বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের বিধান রাখা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এর ফলে কেবল বাহিনীর নাম বা সাইনবোর্ড পরিবর্তন হচ্ছে, কিন্তু কাজের ধরনে কোনো পরিবর্তন নেই। তিনি এটিকে ‘নতুন বোতলে পুরোনো মদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে পুনরায় বলেন যে, র্যাবের নাম পরিবর্তন ছাড়া বাহিনীর কার্যক্রমে সব কিছু আগের মতোই থেকে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ এর ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

















