বাংলাদেশ

সার সংকট: ডিলার সিন্ডিকেট ও সরকারি কর্মকর্তার যোগসাজশে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ

প্রতিবেদক
মুম্বাইয়ে নিজ বাসায় ছুরিকাঘাতের এক বছর পর মুখ খুললেন সাইফ আলী খান মুম্বাইয়ে নিজ বাসায় ছুরিকাঘাতের এক বছর পর মুখ খুললেন সাইফ আলী খান দেশের উন্নয়ন টেকসই করতে সৎ মানুষের রাজনীতিতে আসা জরুরি দেশের উন্নয়ন টেকসই করতে সৎ মানুষের রাজনীতিতে আসা জরুরি সিএমএইচে চিকিৎসাধীন আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে গেলেন প্রধানমন্ত্রী সিএমএইচে চিকিৎসাধীন আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে গেলেন প্রধানমন্ত্রী বাব আল-মান্দেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিল হুতি যোদ্ধারা বাব আল-মান্দেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিল হুতি যোদ্ধারা নবাবগঞ্জে শিশুদের নিয়ে তালগাছ রোপণের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নবাবগঞ্জে শিশুদের নিয়ে তালগাছ রোপণের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেশব্যাপী ৩ মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান শুরু হচ্ছে শনিবার দেশব্যাপী ৩ মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান শুরু হচ্ছে শনিবার সুইজারল্যান্ডে পর্যটকবাহী বাস দুর্ঘটনায় ৫ ডাচ নাগরিকের মৃত্যু সুইজারল্যান্ডে পর্যটকবাহী বাস দুর্ঘটনায় ৫ ডাচ নাগরিকের মৃত্যু ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ১ হাজার ১২ হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ১ হাজার ১২ সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ
সব খবর

দেশে সারের কোনো সংকট নেই এবং চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত মজুদ রয়েছে বলে সরকারিভাবে দাবি করা হলেও, মাঠপর্যায়ে কৃষকরা তীব্র সংকটের সম্মুখীন হচ্ছেন। আমন ও রবি মৌসুমে প্রয়োজনীয় সার পেতে তাদের দোকানে দোকানে ঘুরতে হচ্ছে এবং সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এই কৃত্রিম সংকট তৈরির পেছনে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী সার ডিলারদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এবং কিছু সরকারি কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই, বরং চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত মজুদ রয়েছে। তিনি বলেন, একটি সিন্ডিকেট সারা দেশে অরাজকতা তৈরি করছে এবং পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং কৃষকদের কাছে সঠিক সময়ে, সঠিক পরিমাণে ও নির্ধারিত মূল্যে সার পৌঁছে দিতে নীতিমালা অনুযায়ী সরবরাহ ব্যবস্থা পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনো এলাকায় চাহিদার তুলনায় মজুদ কম থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য গুদাম বা অঞ্চল থেকে সার সরবরাহ করে ঘাটতি সমন্বয় করা হবে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জাতীয় সংসদে বলেছেন, বিগত স্বৈরাচার সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া ডিলাররা, যাদের অনেকে এখন পলাতক, তারা নতুন সরকারকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে মাঠপর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংকট কাটাতে ও বিতরণ ব্যবস্থার গতি ফেরাতে সরকার নতুন করে প্রায় ৫ হাজার নতুন ডিলার এবং তাদের অধীনে আরও ১৬ হাজার খুচরা ডিলার নিয়োগের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিগত সরকারের সময়কার প্রায় ৩ হাজার ৩৭৫৯ জন সারের ডিলার বর্তমানে এলাকা ছেড়ে পলাতক থাকায় বিতরণ পয়েন্টগুলো সাময়িকভাবে অকার্যকর হয়ে পড়েছিল।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেছেন, ‘কার্যত সারের কোনো সংকট নেই। সম্প্রতি যেসব ঘটনা ঘটেছে তার পেছনে রয়েছে সার ইস্যুতে সরকারকে বিব্রত করার গভীর ষড়যন্ত্র। কিছু অসৎ ডিলারসহ মহল বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা করছে।’ তিনি আরও জানান, কৃষকদের চাহিদা নিরূপণ করে দেশের প্রতিটি জেলায় সার সরবরাহ করা হয়েছে এবং ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে। জেলা পর্যায় ছাড়াও মন্ত্রণালয় থেকে সারসংক্রান্ত প্রতিটি বিষয় কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।

কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি আমন ও রবি মৌসুমে সারের তীব্র চাহিদা রয়েছে। কিন্তু ডিলাররা সরকারি মূল্যে সার সরবরাহ না করে তা কালোবাজারে বিক্রি করছেন। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক পরিচয়ে লাইসেন্স পাওয়া ডিলাররা এখনো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গুদামজাত সার মজুদ করে রাখছেন। এতে প্রান্তিক কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বস্তাপ্রতি অতিরিক্ত ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে বাধ্য হচ্ছেন। দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক উপজেলায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ডিলারদের নিবন্ধিত দোকানগুলোতে তালা ঝুললেও স্থানীয় খুচরা ও কালোবাজারি চক্রের মাধ্যমে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইউরিয়া, টিএসপি এবং এমওপি সার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জানান, তদারকি জোরদার করা হলেও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণে মাঠপর্যায়ে সার ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। সার সংকটের এই সুযোগে মুনাফালোভী চক্রটি কৃষকদের পকেট কাটছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। কৃষকদের দাবি, অবিলম্বে এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে আওয়ামী আমলের বিতর্কিত ডিলারদের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে এবং মনিটরিং আরও কঠোর করে প্রকৃত কৃষকদের মাঝে ন্যায্যমূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

চলতি আমন মৌসুমে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ ও কথিত সার সিন্ডিকেট ভাঙার দাবিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটছে। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে এক পরিবেশকের গুদামে ভাঙচুর করেছেন ক্ষুব্ধ কৃষকরা। জেলার ভূরঙ্গামারীতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ হয়েছে। নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা বাজারে সারের গুদামেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। লালমনিরহাটেও মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারের হাতে চাহিদার বিপরীতে পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইউরিয়া সারের চাহিদা ১৪ লাখ ২৯ হাজার টন, টিএসপি ৪ লাখ ৬৭ হাজার টন, ডিএপি ১০ লাখ ২৩ হাজার টন এবং এমওপি সারের চাহিদা ৬ লাখ টন। মোট চাহিদার পরিমাণ ৩৫ লাখ ২০ হাজার টন। এই চাহিদার বিপরীতে মজুদ রয়েছে– ইউরিয়া সার ১৭ লাখ ৪৬ হাজার টন, টিএসপি ৯ লাখ ৪৫ হাজার টন, ডিএপি ১৩ লাখ ৮৪ হাজার টন এবং এমওপি ১১ লাখ টন। মোট মজুদের পরিমাণ প্রায় ৫১ লাখ ৮৩ হাজার টন, যা আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চাহিদার চেয়ে প্রায় ১৬ লাখ ৬৩ হাজার টন বেশি।

সার নিয়ে সরকারের নতুন নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে সাড়ে ১৫ বছরের অবৈধ সুবিধাভোগী আওয়ামী দোসররা। তারা পরিকল্পিতভাবে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। ডিলারশিপ বাতিল হওয়ার ভয়, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে সার পাচারের চেষ্টা, নতুন নীতিমালার আলোকে বিসিআইসি ডিলারদের একচেটিয়া ব্যবসা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা এবং কৃষকদের কাছ থেকে কিছু খুচরা বিক্রেতার সারের অতিরিক্ত মূল্য আদায়— এসব কারণে সংকট তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ।

দেশের উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলায় ২০২৫-২৬ সালে ইউরিয়া সার বরাদ্দ ছিল ৭ লাখ ২৭ হাজার ৪০০ টন, টিএসপি ২ লাখ ৫২ হাজার ৭০৯ টন, ডিএপি ৫ লাখ ৮২ হাজার ৩৬৫ টন, এমওপি ছিল ৪ লাখ ৭ হাজার ২৬২ টন। চলতি অর্থবছরে ওই ১৬ জেলায় ইউরিয়া সারের বরাদ্দ ৭ লাখ ৪১ হাজার ৪০০ টন, টিএসপি ২ লাখ ৫৪ হাজার ৭০৯ টন, ডিএপি ৬ লাখ ৫ হাজার ৩৭১ টন এবং এমওপি সার ৪ লাখ ১১ হাজার ২৬২ টন। গত অর্থ বছরের তুলনায় চলতি অর্থ বছরের টিএসপি সারের বরাদ্দ ২ হাজার টন, ডিএপি ২৩ হাজার ৬ টন এবং এমওপি সারের বরাদ্দ ৪ হাজার টন বাড়ানো হয়েছে।

সার নিয়ে বেশি হট্টগোল হয়েছে উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে। জেলার চর যাত্রাপুরের কৃষক আজগার আলী বলেন, দ্বিতীয় দফায় ধানক্ষেতে সার দিতে হবে, কিন্তু সরকারি দামে সার পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে খোলাবাজার থেকে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে, এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে। ভূরুঙ্গামারীর পাটেশ্বরী ব্রিজ পাড় এলাকার কৃষক তোফাজ্জল হক বলেন, সারের জন্য দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়, এর পরও অনেক সময় সার পাওয়া যায় না। এতে একদিকে সময়, অন্যদিকে শ্রমের মজুরি— দুদিক থেকেই ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

লালমনিরহাটের দুর্গাপুর ইউনিয়নের কৃষক মামুন বাদশা বলেন, ‘আমি পাঁচ দোন জমিতে ধান চাষ করেছি। স্বাভাবিকভাবেই আমার বেশি পরিমাণে সার প্রয়োজন। কিন্তু দোকানে সার কিনতে গেলে চাহিদা অনুযায়ী পাচ্ছি না। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর যখন আমার সিরিয়াল আসে, তখন অনেক সময় দোকানে আর সার মজুদ থাকে না।’ তিনি সরকারের কাছে কৃষকদের চাহিদামতো এবং প্রয়োজনের সময় সার কেনার ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। মেহেরপুরের কৃষক ফিরোজ আলী পেঁয়াজ ও কপি চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি জানান, ডিলারদের কাছে চাহিদামতো সার পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে খোলাবাজার থেকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে। মেগা খান নামের আরেক কৃষক জানান, ডিলারের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সার না পাওয়ায় খোলাবাজার থেকে সার কিনতে হয়েছে, যেখানে প্রতি বস্তা সারের জন্য অতিরিক্ত তিন থেকে চার শ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হয়েছে।

তবে ডিলারদের দাবি, নীতিমালার পরে কিছু সমস্যা থাকলেও বাস্তবে সারের সরবরাহ ও বরাদ্দ কম। কুড়িগ্রাম ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সার ডিলার শামসুল ইসলাম মন্ডল বলেন, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম পাওয়া যাচ্ছে। ময়মনসিংহ জেলা ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাবুল বলেন, সারের সরবরাহ ও বরাদ্দ কম। সব মিলিয়ে উৎপাদন মৌসুমে এই নীতিমালা বাস্তবায়ন ও অপ্রতুল বরাদ্দ সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৃষি বিভাগ বলছে, বরাদ্দ বাড়লেও সার নিয়ে গুজবে বিভ্রান্ত হচ্ছেন কৃষকরা। বিশেষ করে নদীতীরবর্তী অঞ্চলের কৃষকরা আসন্ন রবি মৌসুম সামনে রেখে আগাম সার সংগ্রহে ঝুঁকছেন, এতে অতিরিক্ত চাহিদায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, সার নিয়ে জেলা পর্যায়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নানা অপ্রচারও রয়েছে, যারা ‘সার নেই’ এমনটি প্রচার করে কৃষকদের উত্তেজিত করে তুলেছে। এছাড়া আসন্ন রবি মৌসুমকে কেন্দ্র করে কৃষকরা অধিক পরিমাণ সার মজুদ করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে।

কৃষি বিভাগ আরো বলছে, সারের সংকট নেই। চলতি আমন মৌসুমে সারের প্রয়োজনীয়তা শেষ পর্যায়ে এবং মাসভিত্তিক বরাদ্দ ও সরবরাহ স্বাভাবিক। কিন্তু সামনে সারের সংকট দেখা দিতে পারে—এমন একটি গুজব থেকে কৃষকদের মধ্যে আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। তারা ভাবছেন, সামনে ভুট্টা ও আলু চাষের সময় সারের সংকট দেখা দিতে পারে, ফলে এখন থেকে সার সংগ্রহ করে মজুদের চেষ্টা করছেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জুলাই এবং আগস্টে ডিলাররা ইচ্ছা করে সরকারি গুদাম থেকে বরাদ্দের অর্ধেক সার উত্তোলন করেন। ১৫ জেলার কৃষি কর্মকর্তারা এ ঘটনাটি কৃষি মন্ত্রণালয়কে অবহিত না করে গোপন রাখেন। পরে কৃষি মন্ত্রণালয় অনুসন্ধান করে দেখেছে, পরিকল্পিতভাবে সরকারি গুদাম থেকে বরাদ্দকৃত সার উত্তোলন না করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চালানো হয়েছে। এ কারণে এরই মধ্যে ১৫ জেলার কৃষি কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়েছে। এছাড়া চারজন জেলা কৃষি কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার এবং আরো চারজনকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সল ইমাম এবং যুগ্ম সচিব ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডিলাররা আগে থেকে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বেশি দামে সার বিক্রি করতেন। বর্তমানে খুচরা বিক্রি বন্ধ থাকায় খুচরা বিক্রেতারা ভাড়াটে শ্রমিক সাধারণ কৃষকদের সঙ্গে লাইনে দাঁড় করিয়ে সার সংগ্রহ করছেন। তারা একবার সার নিয়ে ফের লাইনে দাঁড়ান। সার সংগ্রহ করে অবৈধ মজুদ করছেন। তাদের কারণে অনেক সময় কৃষকরা সার থেকে বঞ্চিত হন। এই অনুপ্রবেশকারীরা ভিড়ে প্রবেশ করে হঠাৎ উসকে দিয়ে বিক্ষোভ সৃষ্টি করে।

আওয়ামী লীগের আমলে প্রতি ইউনিয়নে একজন করে ডিলার ছিলেন। ডিলারের কাছ থেকে নিয়ে খুচরা বিক্রেতারা সার বিক্রি করতেন। এ প্রক্রিয়ায় একই ডিলার একাধিক ইউনিয়নে নিজের মা, বাবা, ছেলে, মেয়ে, শ্যালক-শ্যালিকা কিংবা অন্য কোনো আত্মীয়র নামে ডিলারশিপ নিয়ে একচেটিয়া ব্যবসা করেছেন। বর্তমান সরকার নতুন করে ডিলার নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন করে এবং সার বরাদ্দের এখতিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয়ের হাতে নিয়ে আসে। এতে ডিলারদের একটি অংশ ক্ষুব্ধ হয় এবং সার সংকট সৃষ্টিতে তৎপর হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। নতুন নীতিমালায় একটি ইউনিয়নে ৩ জন ডিলার নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া রাষ্ট্রের জরুরি প্রয়োজনে বিদ্যমান ব্যবস্থার বাইরে আরো একজন করে ডিলার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর বাইরেও প্রত্যেক ডিলারের অধীনে দুজন করে সাব-ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা নিয়োগ হবে। আগে থেকে যারা খুচরা বিক্রেতা ছিলেন, তাদের মধ্যে থেকে দুজন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আর ৬ জন খুচরা বিক্রেতা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে একজনের স্থলে তিনজন ডিলার ব্যবসায় বিনিয়োগের সুযোগ পাচ্ছে। এ কারণে আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগ পাওয়া ঠিকাদাররা ক্ষুব্ধ হয়েছে। এ ছাড়া ৬ জন খুচরা বিক্রেতা ব্যবসার সুযোগ পাওয়ায় অনেকের লাভে ভাগ বসায়। ফলে তারাও ক্ষুব্ধ হয়ে সার সংকট তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে কৃষকদের কাছে সময়মতো ও নিরবচ্ছিন্নভাবে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার পৌঁছে দিতে নন-ইউরিয়া সারের সরবরাহ ও নিরাপদ মজুদ নিশ্চিত করছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই ডিএপি ও টিএসপি সারবাহী বিএডিসি-র ৭টি জাহাজ দেশের বন্দরে ভিড়বে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় বিভিন্ন দেশ থেকে নন-ইউরিয়া সার আমদানি, সংরক্ষণ ও সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করছে বিএডিসি। এতে বৈশ্বিক বাজারে সম্ভাব্য সংকট বা সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও দেশের কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সার পরিস্থিতি তদারকিতে কৃষি মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আলাদা দুটি কমিটি করা হয়েছিল গত মাসে। ওইসব কমিটি সারাদেশের সার পরিস্থিতি তদারকি করছে। এ কমিটির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক এদিনকে বলেন, সার নিয়ে আওয়ামী লীগ আমলের ডিলারদের একটি সিন্ডিকেট সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সারাদেশে আরো বেশি অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে। এছাড়া কোনো সমস্যা নেই। কৃষি মন্ত্রণালয়েরও একটি পক্ষ বিগত সময় সার আমদানির সিদ্ধান্ত নানাভাবে প্রভাবিত করে কালক্ষেপণ করিয়েছে, যারা ছিল পতিত সরকারের আমলা-কর্মকর্তা। যে কারণে সারের সংকট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, গত আগস্টে দেওয়া দরপত্রে চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়া বেসরকারি খাতের আমদানিকারকরা ডিএপি, এমওপি ও টিএসপি আমদানির এলসি খোলা শুরু করতে পারেনি। বেসরকারি আমদানি প্রক্রিয়া শুরু করতে অনেক দেরি হয়েছে। এর আগে প্রতি বছর এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে এই আমদানির দরপত্র আহ্বান এবং জুনের মধ্যে কার্যাদেশ দেওয়ার রীতি ছিল। এবার ইচ্ছা করে সেটা দেরি করানো হয়েছে।

দেশে বর্তমানে সারের কোনো ঘাটতি নেই, বরং চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত মজুদ রয়েছে বলে বুধবার জাতীয় সংসদে স্পষ্ট দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি জানান, বিগত স্বৈরাচার সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া ডিলাররা, যাদের অনেকে এখন পলাতক, তারা নতুন সরকারকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে মাঠপর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংকট কাটাতে ও বিতরণ ব্যবস্থার গতি ফেরাতে সরকার নতুন করে সারা দেশে প্রায় ৫ হাজার নতুন ডিলার এবং তাদের অধীনে আরও ১৬ হাজার খুচরা ডিলার নিয়োগের ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মীর শাহে আলম সংসদকে অবহিত করে বলেন, বিগত সরকারের সময়কার প্রায় ৩ হাজার ৭৫৯ জন সারের ডিলার বর্তমানে এলাকা ছেড়ে পলাতক থাকায় বিতরণ পয়েন্টগুলো সাময়িকভাবে অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। তবে সার সরবরাহ শৃঙ্খলে যাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সে লক্ষ্যে সরকার জরুরি ভিত্তিতে ইউনিয়ন পর্যায়ে আরো একজন করে সর্বমোট ৪ হাজার ৯১৮ জন নতুন ডিলার নিয়োগ দিচ্ছে, যা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করা হচ্ছে। নিয়োগপ্রাপ্ত নতুন ডিলারদের মাধ্যমে আবার এলাকাভেদে প্রয়োজনীয় সংখ্যক খুচরা ডিলার নিযুক্ত করা হবে।

সার নিয়ে বেশি হট্টগোল হয়েছে উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে। জেলার চর যাত্রাপুরের কৃষক আজগার আলী বলেন, দ্বিতীয় দফায় ধানক্ষে‌তে সার দিতে হবে। কিন্তু সরকারি দামে সার পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে খোলাবাজার থেকে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। এতে বেড়ে যাচ্ছে উৎপাদন খরচ। আবার ডিলারের কাছ থেকেও প্রয়োজনের সময় সার পাওয়া যায় না। ভূরুঙ্গামারীর পাটেশ্বরী ব্রিজ পাড় এলাকার কৃষক তোফাজ্জল হক বলেন, সারের জন্য দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এর পরও অনেক সময় সার পাওয়া যায় না। সার নিতে গেলে এক দিন চলে যায়। এ সময় একজন শ্রমিকের পারিশ্রমিক ৭০০ টাকা। ফলে সার কিনতে গিয়ে একদিকে সময়, অন্যদিকে শ্রমের মজুরি দুদিক থেকেই ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে তা‌দের।

মুম্বাইয়ে নিজ বাসায় ছুরিকাঘাতের এক বছর পর মুখ খুললেন সাইফ আলী খান মুম্বাইয়ে নিজ বাসায় ছুরিকাঘাতের এক বছর পর মুখ খুললেন সাইফ আলী খান দেশের উন্নয়ন টেকসই করতে সৎ মানুষের রাজনীতিতে আসা জরুরি দেশের উন্নয়ন টেকসই করতে সৎ মানুষের রাজনীতিতে আসা জরুরি সিএমএইচে চিকিৎসাধীন আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে গেলেন প্রধানমন্ত্রী সিএমএইচে চিকিৎসাধীন আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে গেলেন প্রধানমন্ত্রী বাব আল-মান্দেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিল হুতি যোদ্ধারা বাব আল-মান্দেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিল হুতি যোদ্ধারা নবাবগঞ্জে শিশুদের নিয়ে তালগাছ রোপণের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নবাবগঞ্জে শিশুদের নিয়ে তালগাছ রোপণের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেশব্যাপী ৩ মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান শুরু হচ্ছে শনিবার দেশব্যাপী ৩ মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান শুরু হচ্ছে শনিবার সুইজারল্যান্ডে পর্যটকবাহী বাস দুর্ঘটনায় ৫ ডাচ নাগরিকের মৃত্যু সুইজারল্যান্ডে পর্যটকবাহী বাস দুর্ঘটনায় ৫ ডাচ নাগরিকের মৃত্যু ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ১ হাজার ১২ হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ১ হাজার ১২ সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ
সব খবর