রাজধানীর বনশ্রীতে পথকুকুরকে খাবার দিতে গিয়ে এক তরুণী স্থানীয় কিছু মানুষের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টায় বনশ্রী এফ ব্লকের ৮/৩ নম্বর রোডের লাল মিয়া গলিতে এই ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার তরুণী সুমাইয়া রহমান (বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরীজীবী) এই ঘটনায় আজ বুধবার খিলগাঁও থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সুমাইয়া রহমান জানান, তিনি নিয়মিত ওই গলিতে কুকুরদের খাবার দেন। গতকালও তিনি কয়েকটি কুকুরকে খাবার দিতে গেলে একটি কাপড়ের দোকানের সামনে থাকা এক কিশোর তাকে সরে যেতে বলে। সুমাইয়া সরে যেতে দেরি করলে দোকানের মালিকও চড়াও হন। এরপর ওই কিশোর সুমাইয়াকে গালিগালাজ করলে তিনি প্রতিবাদ করেন। এতে ২০ থেকে ২২ বছর বয়সী এক তরুণ এসে সুমাইয়ার মুখে ঘুষি মারেন। এরপর অভিযুক্ত যুবক আশপাশের আরও ৫০ থেকে ৬০ জন লোক জড়ো করে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে সুমাইয়ার ওপর হামলা, মারধর ও গালমন্দ করেন।
ঘটনার সময় সুমাইয়ার সঙ্গে ছিলেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা আসিফ ইমতিয়াজ। তিনি জানান, তারা অনুরোধ করেছিলেন যে তারা দুই মিনিটের মধ্যেই চলে যাবেন। কিন্তু দোকান মালিক ও কিশোর কোনো কথা না শুনে চড়াও হন এবং পরে সুমাইয়াকে মারধর করেন। আসিফ পরিচিত একজনের সাহায্য চাইতে গেলেও পাননি, পরে তিনি সুমাইয়াকে নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
আজ বুধবার বিকেলে ঘটনাস্থল লাল মিয়া গলিতে গিয়ে দেখা যায়, যে কাপড়ের দোকানে ঘটনা ঘটেছিল সেটি বন্ধ ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনা সম্পর্কে মুখ খুলতে রাজি হননি। তবে স্থানীয় নূর হোসেন নামে একজন স্বীকার করেন যে মেয়েটিকে মারধর করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সুমাইয়া কুকুরকে খাওয়াতে গিয়ে দোকান নোংরা করছিলেন এবং বাধা দেওয়ায় তিনি দোকানের মালিককে গালি দেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্য একজন জানান, প্রথম আঘাতকারী যুবকের নাম শুভ, সে স্থানীয় প্রভাবশালী মাঈনুল ও হালিম নামের দুই ভাইয়ের সহযোগী এবং হালিমের শালা। শুভই দোকানটি পরিচালনা করেন এবং সে-ই অন্য লোক জড়ো করে হেনস্তা ও মারধর করে।
মারধরের শিকার সুমাইয়া রহমান আজ সকালে রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি জানান, তার চোয়ালে বেশি আঘাত লেগেছে এবং ডাক্তার প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে এক্সরে দিয়েছেন। আজ তিনি খিলগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর বিকেলে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর আজহারুল ইসলাম জানান, তারা ভুক্তভোগীকে সঙ্গে নিয়ে এলাকা পরিদর্শন করেছেন কিন্তু ভুক্তভোগী হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পারেননি। পুলিশ জানায়, স্থানীয়রা কেউ ঘটনা স্বীকার করছে না এবং তারা প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা করছে। অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগীদের নিয়ে আগামীকাল আবার বসার কথা রয়েছে।

















