আজ রাতে সেমিফাইনালের টিকিট পাওয়ার লড়াইয়ে মাঠে নামছে স্পেন। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে দুই পুরনো অভিশাপ—বেলজিয়াম এবং কোয়ার্টার ফাইনাল। বেলজিয়ানদের বিপক্ষে শেষ আটের এই লড়াই স্পেনের জন্য এক দুঃসহ স্মৃতির পুনরাবৃত্তি নিয়ে এসেছে। ঠিক ৪০ বছর আগে বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল স্পেন। সেই ম্যাচে শেষ ষোলোতে ডেনমার্ককে ৫-১ গোলে হারিয়ে ফেভারিট হিসেবে মাঠে নেমেছিল স্প্যানিশরা। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষে ১-১ সমতার পর টাইব্রেকারে ৫-৪ ব্যবধানে বেলজিয়ামের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। সেই জয় বেলজিয়ামকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তুলেছিল।
চলতি বিশ্বকাপেও স্পেন ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নামছে, যারা শেষ ষোলোতে শক্তিশালী পর্তুগালকে ১-০ গোলে পরাজিত করেছে। ৪০ বছর আগের সেই ম্যাচে বেলজিয়ামের গোলরক্ষক জ্য মারি ফাফ স্পেনের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিয়েছিলেন। এবার তাদের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক ও পেনাল্টি সেভার থিবো কোর্তোয়া। চার দশক আগের সেই পেনাল্টি মিসের স্মৃতি আজও স্পেনের সাবেক স্ট্রাইকার এলয় ওলায়াকে তাড়া করে, যিনি সে সময় মাত্র ২১ বছর বয়সে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ধাক্কা হিসেবে ওই পেনাল্টি মিসকে বর্ণনা করেছিলেন।
১৯৮৬ বিশ্বকাপের সেই পরাজয় স্পেনের জন্য ‘কোয়ার্টার-ফাইনাল অভিশাপ’ শব্দটিকে প্রতিষ্ঠিত করে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে স্প্যানিশদের দুর্বলতা নিয়ে গণমাধ্যমে সমালোচনা প্রবল ছিল। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত স্পেন মাত্র একবারই কোয়ার্টার ফাইনাল জিতেছে, সেটি ২০১০ সালে। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ১-০ গোলের ওই জয়ের বছরই তারা শিরোপা ঘরে তোলে। এর আগে ১৯৫০ সালে তারা শেষ চারে উঠলেও তখন নকআউট পদ্ধতির পরিবর্তে গ্রুপ ফরম্যাটে খেলা হয়েছিল।
চলতি আসরের আগে স্পেন মোট পাঁচবার কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছে, যার মধ্যে কেবল ২০১০ সালেই জয় পেয়েছে। ১৯৩৪ সালে রিপ্লে ম্যাচে ইতালির কাছে হার, ১৯৮৬ সালে বেলজিয়ামের কাছে টাইব্রেকারে পরাজয়, ১৯৯৪ সালে ইতালির কাছে ২-১ গোলে হার এবং ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে বিতর্কিত ম্যাচে পেনাল্টিতে বিদায় ছিল স্পেনের হতাশার ইতিহাস। পরিসংখ্যানের দিক থেকে অবশ্য স্পেন এগিয়ে আছে; বেলজিয়ামের বিপক্ষে মোট ১২ জয়, ৬ ড্র ও দুই হারের রেকর্ড রয়েছে তাদের। ১৯৯০ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়টি ছিল স্পেনের জন্য প্রতিশোধের ম্যাচ। এবার বেলজিয়ামকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা পেরোতে পারলে স্পেন কেবল অভিশাপই কাটাবে না, বরং দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফির পথেও অনেকটা এগিয়ে যাবে।

















