পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় প্রতারণা মামলার প্রকৃত আসামির পরিবর্তে ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে ২০ দিন কারাগারে পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। বিপিনপুর শিববাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় জেলে ৪৭ বছর বয়সী মো. জলিল হাওলাদারকে গত ১৯ আগস্ট দুপুরে মহিপুর থানা-পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শহিদুল ইসলাম গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিপরীতে তাঁকে সেদিনই কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অবশেষে ২০ দিন পর মঙ্গলবার একই আদালত থেকে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
ভুক্তভোগী জলিল হাওলাদারের মেয়ে জেসমিন আক্তার জানান, গ্রেপ্তারের সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মামলার বিষয়টি যাচাই করার অনুরোধ করেছিলেন এবং তাঁর বাবার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই বলে পুলিশকে অবহিত করেছিলেন। কিন্তু স্থানীয়দের আপত্তি উপেক্ষা করেই পুলিশ তাঁর বাবাকে আদালতে পাঠায়। মামলার প্রকৃত আসামি জলিল হাওলাদারের বাড়িও একই এলাকায়, তবে তাঁর বাবার নাম আবদুল মালেক হাওলাদার হলেও মায়ের নাম মাজেদা বেগম এবং তাঁর বয়স ৩৫ বছর। প্রকৃত আসামির বাবা আবদুল মালেক জানান, তাঁর ছোট ছেলে জলিল ২০২৩ সালে সৌদি আরব চলে গেছেন এবং তিনি আর দেশে ফেরেননি।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৩ মে পটুয়াখালী সদর উপজেলার সেহাকাঠি গ্রামের রফিক মুন্সির ছেলে আলমগীর হোসেন অর্থ প্রতারণার অভিযোগে আদালতে মামলাটি করেন। মামলায় আবদুল মালেক হাওলাদারের ছেলে জলিল হাওলাদারকে আসামি করা হয় এবং ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭৩ টাকা পাওনা থাকার অভিযোগ আনা হয়। এই মামলায় ২০২৪ সালের ২৩ জানুয়ারি পরোয়ানা এবং ৮ মে সম্পদ জব্দের আদেশ জারি করা হয়।
ভুক্তভোগীর আইনজীবী হুমায়ুন কবীর জানান, মঙ্গলবার আদালতে বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে আদালত জলিল হাওলাদারকে জামিন দেন। একই সঙ্গে ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আগামী ধার্য তারিখে আদালতে সশরীরে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিকেলে জামিনের নথি কারাগারে পৌঁছালে তিনি মুক্তি পান। মহিপুর থানার ওসি শামীম হাওলাদার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, পরোয়ানায় আসামির মায়ের নাম বা মোবাইল নম্বর না থাকায় এই ভুল হওয়ার সুযোগ ছিল। তবে ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর তাঁকে আইনি সহায়তা প্রদানে পুলিশ সহযোগিতা করেছে।

















