নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে মিকেল মেরিনোর দুর্দান্ত গোলে বেলজিয়ামকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। বদলি গোলরক্ষক সেন্নে লামেন্সের হাত থেকে ফসকে আসা বলটি জালে জড়িয়ে স্পেনকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন মেরিনো। এর আগে পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচেও জয়সূচক গোলটি করেছিলেন তিনিই। এই জয়ের ফলে ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শেষ চারে জায়গা করে নিল স্পেন। একই সঙ্গে টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়েছে দলটি, যা তাদের সর্বকালের সেরা অর্জন। আগামী মঙ্গলবার সেমিফাইনালে স্পেন মোকাবিলা করবে ফ্রান্সের।
ম্যাচের ৭১তম মিনিটে বেলজিয়ামের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক থিবো কুর্তোয়া চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। তার বদলি হিসেবে নামা সেন্নে লামেন্স পাউ কুবারসির দূরপাল্লার শট ঠিকমতো সামলাতে না পারায় মেরিনো গোল করার সুযোগ পান। স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে এদিন একাদশে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে পেদ্রির পরিবর্তে ফাবিয়ান রুইসকে নামান। প্রথমার্ধের বিরতির ঠিক আগে লামিনে ইয়ামালের পাস থেকে পেদ্রো পররোর ক্রস কাজে লাগিয়ে দানি ওলমোর শট কুর্তোয়া ঠেকালেও ফিরতি বলে রুইস গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। বার্সেলোনার তরুণ তারকা ইয়ামাল এদিন বিশ্বকাপে নিজের ষষ্ঠ ম্যাচ খেললেন, যা ১৮ বছর বা তার কম বয়সী খেলোয়াড়দের মধ্যে একটি নতুন রেকর্ড।
প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকলেও বিরতির ঠিক আগে বেলজিয়াম ম্যাচে সমতা ফেরায়। তিমোতি কাস্তানিয়ের ক্রস থেকে চার্লস দে কেতেলারে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন। এর মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো গোল হজম করে স্পেন এবং তাদের টানা ৬৫০ মিনিট গোল না খাওয়ার রেকর্ড ভেঙে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে স্পেনের বলের দখল বেশি থাকলেও বেলজিয়াম বেশ কয়েকবার আক্রমণে উঠে চাপ সৃষ্টি করে। তবে দলের অধিনায়ক ইউরি টিলেমান্স অনুশীলনে চোট পাওয়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে পারেননি, যা বেলজিয়ামের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। টিলেমান্স আসরজুড়ে দারুণ ছন্দে ছিলেন এবং শেষ ষোলোতে সেনেগালের বিপক্ষে দুটি গোল করেছিলেন।
এখন তাদের সামনে রয়েছে ইতালির টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার সর্বকালীন রেকর্ড।
একই সঙ্গে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ থেকে শুরু হওয়া তাদের টানা ৬৫০ মিনিট গোল না খাওয়ার রেকর্ডও শেষ হয়।দ্বিতীয়ার্ধেও বলের দখল বেশির ভাগ সময় স্পেনের কাছেই ছিল।

















