রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক মহলের কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য সহায়তা চেয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘অনিশ্চিত প্রত্যাবর্তন : প্রত্যাবাসনের পথে বাধা নিয়ে রোহিঙ্গাদের বক্তব্য’ শীর্ষক জাতীয় নীতি অবহিতকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগ ও ক্রিমিনোলজি রিসার্চ ফোরাম এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের মূল সমাধান মিয়ানমারেই নিছক সমর্থনের কথা না বলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সংকট সমাধানে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। গবেষণার ফলাফল উল্লেখ করে তিনি জানান, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারকে নিজেদের আবাসভূমি হিসেবে অস্বীকার না করলেও, যে পরিস্থিতির কারণে তারা পালিয়ে এসেছে সেখানে ফিরে যেতে অনাগ্রহী। তিনি প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে পরিচয় ও স্বীকৃতি, জমি ও সম্পত্তির অধিকার, নিরাপত্তা এবং বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গারা দয়া নয়, বরং অধিকার চায়।
তারেক রহমানের দেওয়া ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, সেখানে টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য বিশ্বাসযোগ্য রূপরেখা প্রণয়ন, সহিংসতার অবসান, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং আন্তর্দেশীয় অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপসহ পাঁচটি জরুরি অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়েছিল। এছাড়া কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপত্তাহীনতা ও ক্রমবর্ধমান অপরাধের ঘটনাকে ‘নতুন স্বাভাবিক পরিস্থিতি’ হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে উখিয়ার ১৭টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮১৬ জনের ওপর চালানো জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত অংশীজনদের ৭২টি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগ আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

















