জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির (এনএপিডি) মহাপরিচালক খায়রুল কবীর মেননের বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণ কোর্সে নিয়ম ভেঙে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী, দুই মাসের একটি প্রশিক্ষণ কোর্সে সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা সর্বোচ্চ ১০টি ক্লাস নিতে পারেন। কিন্তু এনএপিডির বর্তমান মহাপরিচালক বিভিন্ন নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে নির্ধারিত সীমার তিন গুণ এবং স্বাস্থ্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের কোর্সে প্রায় দ্বিগুণ ক্লাস নিয়েছেন।
গত ১৭ জুন যোগদানের পর ১২ জুলাই থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা ৩৫তম বিশেষ বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে তিনি ৩০টি ক্লাস নেন। প্রতিটি ক্লাসের জন্য তিনি ৩ হাজার ৬০০ টাকা সম্মানী গ্রহণ করেন। এনএপিডি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান, যা ১৯৮০ সালে যাত্রা শুরু করে। ১৯৮৪ সালে ঢাকার নীলক্ষেতে নিজস্ব ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে একাডেমি। ১৯৯৬ সালের বোর্ড অব গভর্নরসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একাডেমির কোনো সদস্য বাইরের অর্থায়নে আয়োজিত কোর্সে ১০টির বেশি ক্লাস নিতে পারবেন না এবং আয়ের ২০ শতাংশ একাডেমির তহবিলে জমা দিতে হবে। তবে মহাপরিচালক এই নিয়ম মানছেন না।
এ বিষয়ে খায়রুল কবীর মেনন বলেন, মহাপরিচালকের জন্য ১০টি ক্লাস নেওয়ার নিয়মটি বাধ্যতামূলক নয় এবং বিগত সময়েও অন্য মহাপরিচালকেরা এর চেয়ে বেশি ক্লাস নিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, যেহেতু তিনি প্রেষণে কর্মরত এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জনবল নন, তাই আয়ের ২০ শতাংশ জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তার নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ক্লাস নেওয়ার জন্য তাকে প্রচুর পরিশ্রম ও পড়াশোনা করতে হয়, তাই সম্মানী নেওয়া অযৌক্তিক নয়।
তবে একাডেমির সূত্র বলছে, আগের মহাপরিচালকেরা এত বেশি ক্লাস নিতেন না এবং প্রতিষ্ঠানের কৌশলগত উন্নয়নের দিকেই বেশি মনোযোগী ছিলেন। গত ৯ জুলাই একাডেমির এক সভায় সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তার সর্বোচ্চ ১০টি সেশন নেওয়ার সুপারিশ করা হলেও মহাপরিচালক তা উপেক্ষা করছেন। ৩৫তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া একজন কর্মকর্তা জানান, মহাপরিচালকের অতিরিক্ত ক্লাসের কারণে প্রশিক্ষণার্থীদের নিজস্ব মতামতের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।
মহাপরিচালক শুধু ক্লাস নয়, বরং শিক্ষাসফর, বই পর্যালোচনা সভা, উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েও সম্মানী নিচ্ছেন। স্বাস্থ্য ক্যাডারের ১৩৮তম ও ১৩৯তম কোর্সেও তিনি ১৬টি করে ক্লাস নিয়েছেন। সব মিলিয়ে গত চার মাসে তিনটি কোর্সে তিনি অন্তত ৭৫টি সেশন ও কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। এর বাইরে তিনি সন্ধ্যার ছোট কোর্সেও ক্লাস নিয়েছেন। তিনি দুর্নীতি প্রতিরোধ, নেতৃত্ব, সুশাসন ও তথ্য অধিকার আইনের মতো বিভিন্ন বিষয়ে ক্লাস পরিচালনা করেছেন। বোর্ড অব গভর্নরসের পরবর্তী সভায় তিনি এসব নিয়ম সংশোধনের প্রস্তাব তুলবেন বলে জানিয়েছেন।
















