টানা ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে তিস্তা নদী। সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি ৫২ দশমিক ১৮ মিটার উচ্চতায় রেকর্ড করা হয়েছে, যা বিপৎসীমা (৫২ দশমিক ১৫ মিটার) থেকে ৩ সেন্টিমিটার বেশি। মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে নদীর পানি ৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। পাউবো ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানিয়েছেন, উজান থেকে প্রবল ঢল নেমে আসায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার প্রায় ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। রোববার রাত ৯টা থেকে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৮ ঘণ্টায় পানি ২৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ভারতের সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তিস্তার উজানে জলপাইগুড়ির দো-মোহনী এবং কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপরে ওঠায় কমলা সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের তিস্তা অববাহিকায়।
পানি বৃদ্ধির ফলে ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও গয়াবাড়ী ইউনিয়ন এবং জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান জানান, ঝাড়সিংহেশ্বর ও পূর্ব ছাতনাই গ্রামের প্রায় ১ হাজার ২০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন জানিয়েছেন, তার এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৩৫০ পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় আছে। এছাড়া স্থানীয় কৃষক হাসান আলী জানান, গত দুই মাসে বারবার বন্যার কারণে আমন ধানের চারা, ভুট্টা, বাদাম ও মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সময়ে গাইবান্ধার তিস্তা এবং কুড়িগ্রামের ধরলা নদীও সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। চলতি বর্ষা মৌসুমে এটি নিয়ে পঞ্চমবারের মতো তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি বা ওপরে উঠল, যা নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি করেছে। রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে বর্তমানে পানি বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও রাতের মধ্যে তা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে।

















