একসময় খুন, সংঘর্ষ ও সন্ত্রাসের কারণে চট্টগ্রামের রাউজানকে ‘সন্ত্রাসের জনপদ’ হিসেবে অভিহিত করা হতো। তবে বর্তমানে অপরাধ কর্মকাণ্ডের চিত্র পাল্টেছে এবং রাউজানকে ছাড়িয়ে অপরাধের নতুন কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে সীতাকুণ্ড উপজেলা। গত দুই বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাউজানে ৩৪ জন খুন হলেও একই সময়ে সীতাকুণ্ডে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫-এ।
অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই উপজেলায় রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার, দলীয় কোন্দল, চাঁদাবাজি, ব্যবসা ও এলাকা নিয়ন্ত্রণ এবং জমি-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সীতাকুণ্ডে ৪৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে ৩৮ জন এবং বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাসে সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন।
গত ১৯ জানুয়ারি সলিমপুরে র্যাবের ডিডি মোতালেব হত্যার ঘটনাটি প্রশাসনের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এই মামলায় এজাহারভুক্ত ২৯ জন এবং অজ্ঞাতনামা দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এজাহারভুক্ত পাঁচজনসহ মোট ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সীতাকুণ্ডে এই অস্থিরতার সূচনা হয় ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট। জমির বিরোধের জেরে মোহাম্মদ সুমন (৩৮) নামের এক ব্যক্তি হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এরপর থেকে ধারাবাহিক অপরাধের মধ্যে গত ২৫ আগস্ট মুরাদপুর ইউনিয়নে নুরুল ইসলাম ইরানকে কুপিয়ে ও গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। এর ঠিক তিন দিন আগে শামীম নামের আরেক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও রগ কেটে হত্যা করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি অন্যান্য অপরাধও বেড়েছে। গত দুই বছরে সীতাকুণ্ডে ধর্ষণের ২৫টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি সরকার গঠনের পর ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮টি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে ১৭টি ঘটনা ঘটে। এছাড়া একই সময়ে অপহরণের ২০টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে বিএনপির ছয় মাসে চারটি ঘটনা ঘটেছে।

















