টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য খাতে নেমে এসেছে বিপর্যয়। মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে বন্যায় ব্যাপক অবকাঠামোগত ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশল অফিসের তথ্যমতে, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় পরৈকোড়া, হাইলধর, বটতলী, রায়পুর ও জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের সড়কগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ১০০ কিলোমিটার সড়কের পিচ উঠে গেছে, অনেক স্থানে সড়ক ভেঙে দুই ভাগ হয়ে গেছে এবং অতিবৃষ্টিতে সড়কের মাঝখানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সড়কের পাশের গাছের গোড়ার মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় শত শত গাছ উপড়ে পড়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী জাহেদুল আলম জানিয়েছেন, এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন।
কৃষি খাতে ক্ষতির চিত্র আরও ভয়াবহ। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী, ২ হাজার ১৯২ হেক্টর জমির আউশ ধান নষ্ট হয়েছে যার বাজারমূল্য ৪৬ লাখ ৮৪ হাজার ৮০০ টাকা। এছাড়া ২০ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ৮০ হেক্টর জমির আমন বীজতলা, ২ কোটি ৮৬ লাখ ২৬ হাজার টাকা মূল্যের ৩৫৯ হেক্টর জমির সবজি এবং ৮ লাখ টাকা মূল্যের ১৩ হেক্টর ফলের বাগান নষ্ট হয়েছে। সব মিলিয়ে আমন আবাদ, বীজতলা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষি অফিসার শামীম আহমেদ উল্লেখ করেন।
মৎস্য খাতের ক্ষতির পরিমাণও অনেক। নিচু এলাকাগুলোতে ১ হাজার ১০০টি পুকুর ও ১৫টি মৎস্য ঘের তলিয়ে গেছে। এতে মৎস্য খামারিদের প্রাথমিক হিসাবেই প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। চূড়ান্ত তালিকা তৈরির পর এই ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহিন উদ্দিন জানান, টানা বৃষ্টির ফলে আনোয়ারায় বড় ধরনের বন্যা না হলেও যোগাযোগ, মৎস্য ও কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক ঘরবাড়িও বিধ্বস্ত হয়েছে। বর্তমানে পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে ক্ষতির প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠছে। তিনি আরও জানান, সরকার থেকে বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৯: ১৩আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৯: ১৪
১০০ কিলোমিটার সড়কের পিচ উঠে গেছে। অনেক স্থানে দুই ভাগ হয়ে গেছে সড়ক। ১ হাজার ১০০ পুকুর ও ১৫ ঘেরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। ২ হাজার ৫৭২ হেক্টর জমির আমন আবাদ, বীজতলা, সবজি ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার সংশ্লিষ্ট অফিস ও মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট অফিস ও কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করছেন।

















