বিশ্বকাপের মঞ্চে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। সান্ত্বনার এই লড়াইটি শেষ পর্যন্ত ১০ গোলের এক মহাকাব্যিক থ্রিলারে রূপ নেয়, যেখানে ফ্রান্সকে ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড।
ম্যাচের শুরু থেকেই ফরাসি রক্ষণভাগকে চাপে রাখে ইংলিশরা। মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় মাঝমাঠ থেকে বল কেড়ে নিয়ে একক প্রচেষ্টায় বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার জোরালো শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ডেক্লান রাইস। ১২ মিনিটে কায়ো সাকার একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলেও, ১৮ মিনিটে ডেক্লান রাইসের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডের মাধ্যমে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এজরা কনসা।
ম্যাচের ৩৭ মিনিটে আর্সেনাল তারকা বুকায়ো সাকা প্রতি-আক্রমণ থেকে মার্কাস রাশফোর্ডের সাথে দারুণ বোঝাপড়ায় গোল করে ব্যবধান ৩-০ করেন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে কনসার পাস থেকে বাঁ পায়ের শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোলটি করেন বুকায়ো সাকা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম ফ্রান্স কোনো ম্যাচের প্রথমার্ধে ৪ গোল হজম করল। এছাড়া ১৯৯৪ বিশ্বকাপের সুইডেন-বুলগেরিয়া ম্যাচে ৪-০ স্কোরের যে রেকর্ড ছিল, ইংল্যান্ড প্রথমার্ধেই তা স্পর্শ করে ফেলে।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে চিত্রপট পুরোপুরি বদলে যায়। ৫২ মিনিটে মাইকেল ওলিসের পাস থেকে গোল করে ব্যবধান কমানোর সূচনা করেন এমবাপ্পে। এর দুই মিনিট পর এমবাপ্পের পাস থেকেই বারকোলা গোল করলে স্টেডিয়ামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ৬৬ মিনিটে এমবাপ্পে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-৩। এই গোলটি এমবাপ্পেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।
ম্যাচের ৮৪ মিনিটে ফরাসি ডিফেন্ডার মাতো গাস্তো বক্সে জেড স্পেনসকে ফাউল করলে পেনাল্টির সংকেত দেন রেফারি। জুড বেলিংহাম নিজে পেনাল্টি না নিয়ে বুকায়ো সাকাকে হ্যাটট্রিকের সুযোগ করে দেন। ৮৭ মিনিটে স্পটকিক থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সাকা। এরপর যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে দেম্বেল কাট-ইন করে বক্সে ঢুকে গোল করেন। ফ্রান্স সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালালেও শেষ বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে জুড বেলিংহামের গোলে ৬-৪ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় ইংল্যান্ডের।

















