ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দেশটির আহভাজ শহরের ওপর দিয়ে ওড়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত আট দিনের মধ্যে এই নিয়ে চতুর্থবারের মতো আমেরিকার এমকিউ-৯ মডেলের ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান। নজরদারি এবং হামলা—উভয় কাজেই অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও পরিশীলিত এই ড্রোনগুলো ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৫০টিরও বেশি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে তারা। এর মধ্যে প্রায় ৩০টিই হলো এই শক্তিশালী এমকিউ-৯ মডেলের ড্রোন। অথচ চলতি বছরের মার্চের প্রথম সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রসচিব হেগসেথ দাবি করেছিলেন যে, ইরানের আকাশসীমা সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এমকিউ-৯ ড্রোনগুলো সাধারণত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম এবং এগুলোকে সহজে সনাক্ত করা যায় না। তবে ইরান জানিয়েছে, তাদের কাছে বর্তমানে নতুন এবং অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, তারা যদি সত্যিই ৩০টি রিপার ড্রোন ভূপাতিত করে থাকে, তবে তা মার্কিন পররাষ্ট্রসচিবের দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তুলে ধরে। ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি এমকিউ-৯ ড্রোনের গড় আনুমানিক নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেই হিসাবে গত চার মাসে যদি সত্যিই ৩০টি ড্রোন ভূপাতিত হয়ে থাকে, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি এমকিউ-৯ ড্রোনের গড় আনুমানিক নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৩৪ মিলিয়ন (৩ কোটি ৪০ লাখ) মার্কিন ডলার।
সেই হিসাবে গত চার মাসে যদি সত্যিই ৩০টি ড্রোন ভূপাতিত হয়ে থাকে, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারেরও বেশি।

















