মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ায় ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার এই ফাইনাল ম্যাচটিকে ‘ন্যাশনাল স্পেশাল সিকিউরিটি ইভেন্ট’ (এনএসএসই) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে স্টেডিয়ামে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রতিটি দর্শককে কঠোর ব্যক্তিগত দেহ তল্লাশি ও ব্যাগ পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের ৮২ হাজার ৫০০ দর্শকের প্রত্যেককেই বিমানবন্দরের আদলে নিরাপত্তা স্ক্যানিংয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিটি তল্লাশি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে করা হচ্ছে এবং দিনটি বেশ চ্যালেঞ্জিং। এই কঠোর প্রক্রিয়ার কারণে ম্যাচ শুরুর আগেই সব দর্শক স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ম্যাচ শুরুর প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আগে থেকেই স্টেডিয়ামের আকাশে নিরাপত্তা হেলিকপ্টার টহল দিচ্ছে এবং হাজারো সিক্রেট সার্ভিস সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। সকাল ৮টা থেকেই স্টেডিয়ামের বাইরে ম্যাচ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সংবাদকর্মীদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। সকাল ৯টায় গেট খোলার সময় অপেক্ষমাণ মানুষের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছায়। সবাইকে একটি মাত্র প্রবেশপথ দিয়ে ঢোকানো হচ্ছে, যেখানে অ্যাক্রেডিটেশন যাচাইয়ের পাশাপাশি বিমানবন্দরের মতো স্ক্যানার পার হয়ে দেহ তল্লাশি করা হচ্ছে।
এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে রেহাই পাননি জার্মানির সাবেক কোচ জুলিয়ান নাগেলম্যানও। জার্মান স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ম্যাজেন্টার বিশ্লেষক হিসেবে ফাইনাল কভার করতে আসা নাগেলম্যানকেও লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। এদিকে, হাজার হাজার ডলার খরচ করে টিকিট কেনা দর্শকদের একটি বড় অংশ তখনও স্টেডিয়ামে পৌঁছাতে পারেননি। শনিবারও কিছু টিকিট ৩৪ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলারে বিক্রির তালিকায় ছিল।
ম্যাচ শুরুর প্রায় এক ঘণ্টা আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘মেরিন ওয়ান’ হেলিকপ্টারে স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ম্যাচ শেষে বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন তিনি। মূলত তার উপস্থিতির কারণেই ফিফার জন্য এমনিতেই জটিল এই আয়োজন এখন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

















