পায়ের হাড় ভেঙে যাওয়ায় পিয়ারলেস হাসপাতালের পাশেই বসবাসরত এক বয়োজ্যেষ্ঠ নারী হাসপাতালে ভর্তি হন। কোনো আঘাত বা পড়ে যাওয়া ছাড়াই হাড় ভেঙে যাওয়ার এই ঘটনাটি চিকিৎসকদের ভাবিয়ে তোলে। এক্স-রে পরীক্ষায় দেখা যায়, তার ডান উরুর হাড় বা ফিমার দুই টুকরো হয়ে গেছে এবং হাড়ের অনেক অংশ ছোট ছোট ফুটো হয়ে ক্ষয়ে গেছে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে লাইটিক লেশন বলা হয়। অর্থোপেডিক সার্জন সফলভাবে অপারেশন সম্পন্ন করলেও বায়োপসির জন্য পাঠানো নমুনায় ধরা পড়ে মাল্টিপল মায়োলোমা।
ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. রাজীব ভট্টাচার্জের মতে, মাল্টিপল মায়োলোমা হাড়ের ক্যান্সার নয়, এটি রক্তের এক ধরনের ক্যান্সার যা অস্থিমজ্জায় থাকা বিশেষ কোষ থেকে শুরু হয়। তবে এই রোগ হাড়ের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। অনেক সময় রোগীরা দীর্ঘস্থায়ী কোমর, পিঠ, পাঁজর বা কাঁধের ব্যথায় ভোগেন। হাড়ের দুর্বলতার কারণে সামান্য আঘাতেই হাড় ভেঙে যেতে পারে, একে প্যাথোলজিক্যাল ফ্র্যাকচার বলা হয়। এছাড়া রক্তাল্পতা, কিডনির জটিলতা বা রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও এতে দেখা দিতে পারে।
বর্তমান সময়ে মাল্টিপল মায়োলোমার চিকিৎসায় অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। নতুন ওষুধের পাশাপাশি প্রয়োজনে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি না হয়েই ডে-কেয়ার বা আউটডোর ভিত্তিতে চিকিৎসা সম্ভব। তবে চিকিৎসার চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা। রোগ নির্ণয়ের পর পরিবারের সদস্য বা দায়িত্বশীল অভিভাবকের অনুপস্থিতি ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ডা. রাজীব ভট্টাচার্জের মতে, আধুনিক জীবনের ইঁদুর দৌড়ে মানুষ একা হয়ে যাচ্ছে, যেখানে সম্পর্কের টানাপোড়েন চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ডা. রাজীব ভট্টাচার্জ ভারতের কলকাতা থেকে এই রোগের চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। তার অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য যোগাযোগ করা যাবে শ্রী সুদীপ দাসের সঙ্গে (+91 89811 19950) অথবা rajib17cmc@gmail.com ইমেইলে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য ভিজিট করা যাবে calcuttacancercare.com ওয়েবসাইটটি।

















