নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ৮০,৬৬৩ জন দর্শকের উপস্থিতিতে লিওনেল মেসিকে আরও একবার বিশ্বজয়ী হিসেবে দেখার প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। স্পেনের কাছে ১-০ গোলের পরাজয়ে আর্জেন্টিনা শিরোপা হাতছাড়া করলেও, ৩৯ বছর বয়সি এই ফুটবল জাদুকরের জন্য এটি ছিল এক গৌরবময় বিদায়ের মহাকাব্য। গ্যালারিতে যখন স্প্যানিশ উল্লাস, তখন মাঠের কোণে মেসির চোখে জল ছিল এক কিংবদন্তির বিদায়ী বিষাদের প্রতিচ্ছবি।
কিলিয়ান এমবাপ্পে বা জুড বেলিংহামের মতো তরুণ তুর্কিদের গতিময় ফুটবলের বিপরীতে মেসি তার অভিজ্ঞতা ও মস্তিষ্ক দিয়ে পুরো টুর্নামেন্ট নিয়ন্ত্রণ করেছেন। আর্জেন্টিনার করা ১৯টি গোলের মধ্যে ১২টিতেই সরাসরি অবদান ছিল তার—যার মধ্যে আটটি গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকসহ গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনি রানার্সআপ হয়েছেন। এবারের বিশ্বকাপে মেসি ২১টি গোল নিয়ে নিজের পরিসংখ্যান সমৃদ্ধ করেছেন এবং ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপের ফাইনালে অধিনায়কত্ব করার অনন্য কীর্তি গড়েছেন। বিশ্বকাপে ৩৩টি গোলে সরাসরি অবদান রাখা এই মহাতারকা আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০৭টি ম্যাচ খেলে আন্তর্জাতিক ফুটবলের ২০০ ম্যাচের এলিট ক্লাবেও নিজের নাম লিখিয়েছেন।
২০০৬ সালে অভিষেকের পর দীর্ঘ পথচলায় নানা সমালোচনা ও অপবাদ সয়েছেন মেসি। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সাময়িক অবসরের পর কোচ লিওনেল স্কালোনির হাত ধরে তার প্রত্যাবর্তন ছিল রাজকীয়। ২০২১ কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা, ২০২২ বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা জয়ের মাধ্যমে তিনি আর্জেন্টিনার ফুটবলে এক স্বর্ণযুগ তৈরি করেছেন। কোচ স্কালোনি ম্যাচ শেষে মন্তব্য করেন, মেসির ফুটবল অবদানের পরিমাপ কোনো ট্রফি বা একটি ম্যাচ দিয়ে করা অসম্ভব।
ম্যাচ শেষে লামিনে ইয়ামালসহ প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়রা তাকে সান্ত্বনা জানালেও মেসির চোখে ছিল রাজ্যের হতাশা। রানার্স-আপ মেডেল গ্রহণের সময় স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের দেওয়া গার্ড অব অনার পেরিয়ে যাওয়ার সময় তার মলিন হাসিতে ধরা পড়েছিল বিষাদ। যদিও আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটিই তার শেষ ম্যাচ কি না, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে ফুটবল বিশ্ব তাকে মনে রাখবে সর্বকালের সেরা হিসেবে, যিনি ট্রফি ছাড়াই মাঠ ছাড়লেও ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে রইলেন।

















