আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়ায় ঘুষ গ্রহণের গুরুতর অভিযোগ ওঠায় রাজশাহীর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ২০ জুলাই নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একই সঙ্গে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম-সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) ডিএম আতিকুর রহমান। গত ২১ জুলাই এই কমিটি গঠনের পর রাজশাহী অঞ্চলে ১৪৩ জন কর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা সরেজমিন তদন্ত করতে বলা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ জুন, যখন নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে দেশের সকল আঞ্চলিক কার্যালয়ে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই দিনে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) ই-জিপির পরিবর্তে অফলাইনে ‘ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড’ (ডিপিএম) অনুসরণ করে ৩০ জুনের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার বাধ্যবাধকতা দেয়।
এই নির্দেশনা অনুযায়ী, উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়গুলোর জন্য ৫ জন চালক, ৬৯ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং ৬৯ জন নিরাপত্তা প্রহরীসহ মোট ১৪৩ জন কর্মী সরবরাহের কার্যাদেশ পায় ‘কেএসএফ ট্রেড লিমিটেড’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নিয়ম অনুযায়ী, পূর্বে কর্মরত কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার শর্তে ১৩৭ জন অভিজ্ঞ কর্মীর তালিকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে তারা নতুন করে কর্মস্থলে যোগ দেন।
পরবর্তীতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নিয়োগের বিপরীতে জনপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ প্রকাশ পায়। এ বিষয়ে কেএসএফ ট্রেড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম হোসাইন ঘুষের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তালিকা অনুযায়ীই পূর্বে কর্মরত কর্মীদের বহাল রেখে নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং আলাদা কোনো তালিকা করা হয়নি। তবে প্রতিষ্ঠানের অগোচরে কেউ ব্যক্তিগতভাবে কোনো লেনদেন করে থাকলে তার দায়ভার কেএসএফ ট্রেড নেবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

















