চীন, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, এসব দেশের সঙ্গে বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং সেই প্রক্রিয়া বর্তমানে এগিয়ে যাচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত ‘দ্য ক্যাপিটাল ডায়ালগ: এ ক্লোজড-ডোর রাউন্ডটেবিল অন ফাইন্যান্স অ্যান্ড ক্যাপিটাল’ শীর্ষক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার অর্থনৈতিক কূটনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, নতুন বাজার সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের আয়োজন করেছিল।
বৈঠকে অর্থ উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ আল তিতুমীর, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী, পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এতে এলডিসি উত্তরণ, বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই), পুঁজিবাজার, ব্যবসা সহজীকরণ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে পাওয়া পরামর্শগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন।
শামা ওবায়েদ আরও বলেন, বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। ব্যাংকিং খাত ও পুঁজিবাজারসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করতে ধারাবাহিকভাবে নীতিগত সংস্কার কাজ চলছে। বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে তিনি জ্বালানি, তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্প, সৃজনশীল অর্থনীতি, কুটির শিল্প, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া খাতের কথা তুলে ধরেন। এছাড়া ব্লু-ইকোনমিতেও ইউরোপের অনেক দেশ বিনিয়োগে আগ্রহী বলে তিনি জানান।
বিনিয়োগের সময়সীমা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই চলমান, যা এক বা দুই দিনের বিষয় নয়। বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সব ধরনের দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

















