প্রায় পাঁচ দিনের বিরতির পর ইরানে ফের সামরিক অভিযান শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সেনাদের ওপর আকস্মিক হামলার চেষ্টার প্রতিশোধ নিতেই এই ‘বড় ধরনের’ অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ৮টার দিকে (বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টা) এই অভিযান শুরু হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, মঙ্গলবার জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের দিকে ইরানের গোলাবর্ষণের প্রতিক্রিয়ায় এই হামলা চালানো হয়েছে। এটিকে তারা একটি ‘শক্তিশালী জবাব’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের বলেন, তারা ইরানের ওপর জোরালো আঘাত হানতে যাচ্ছেন।
এদিকে, ইরাকে ইরানি মিত্রদের লক্ষ্য করে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব যৌথ হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। সেন্টকমের তথ্যমতে, গত ৭২ ঘণ্টায় আইআরজিসি পরিচালিত ৩০টির বেশি ড্রোন হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব যৌথভাবে পূর্ব ইরাক জুড়ে সন্ত্রাসীদের রসদ ও অস্ত্রের ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। তবে ইরাকি প্রেসিডেন্টের দপ্তর এই বোমাবর্ষণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ইরাকের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। যদিও ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দাবি করেছেন, ইরাক সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই এই হামলাগুলো চালানো হয়েছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ‘শিশু হত্যাকারী আমেরিকান বাহিনীর আগ্রাসনের জবাবে’ জর্ডানে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটি ও কমান্ড সেন্টারে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারেও তারা আঘাত করেছে। আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব নৌযান সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় জলপথের অনিরাপদ ও অবৈধ পথ দিয়ে যাচ্ছিল।
উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানে হামলা চালায়, তখন ট্রাম্প বলেছিলেন এই অভিযান ‘মাত্র কয়েক সপ্তাহ’ স্থায়ী হবে। কিন্তু পাঁচ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও যুদ্ধের কোনো ইতি টানার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এর আগে কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের আশায় উভয় পক্ষ কয়েকদিন হামলা বন্ধ রেখেছিল। ট্রাম্প ‘খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা’ হওয়ার কথা দাবি করলেও তেহরান কোনো ধরনের আলোচনার কথা সরাসরি অস্বীকার করেছে। এছাড়া সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে উত্তেজনা কমানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে অ্যাক্সিওস প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

















