ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ৩ জন শিক্ষক ও ১ জন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত এবং ৪ জন শিক্ষককে সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ২৮শে জুলাই উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম। তার বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষ ও এর বাইরে অশিক্ষকসুলভ আচরণ এবং নৈতিক স্খলনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া, বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও তথ্যানুসন্ধান কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. আফরোজা শেলীকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অফিস শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের জন্য প্রধান প্রকৌশলীর অফিসের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) এ কে এম মাহবুব মুস্তাফাকেও সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
অন্যদিকে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থি কর্মকাণ্ড, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকার বিরোধী অপপ্রচার, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ এবং হুমকি প্রদানের অভিযোগে ক্লিনিক্যাল ফার্মেসী ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিতকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগে ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সারা শামসুর রউফ এবং শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম (রফিক শাহরিয়ার)কেও তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনকে বিভাগের নানাবিধ অনিয়ম এবং এম.ফিল ও পিএইচ.ডি থিসিসে সাদৃশ্যমূলক চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট।
সভায় আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২০০৯ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত নিয়োগের সকল অনিয়ম পর্যালোচনা ও স্বচ্ছতা যাচাইয়ের জন্য প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠিত হয়েছে। এই কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের ডিনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়াও, বিশ্বব্যাংক ও ইউজিসির অর্থায়নে পরিচালিত ‘হেকেপ’ প্রকল্পের আওতাধীন গবেষণা কার্যক্রম ও অর্থ ব্যবহার পর্যালোচনার জন্য প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সিন্ডিকেট সভায় জুলাইয়ের চেতনা বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়। যাচাই-বাছাইয়ের পর পরবর্তীতে এ বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একইসাথে, প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন মলচত্বরে একটি জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং আগামী ৫ আগস্ট এই ‘জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হবে।

















