গত জুন মাসের পর জুলাই মাসেও দেশে প্রবাসী আয় প্রবাহের গতি কিছুটা কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী জুলাই মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ২৮৬ কোটি ডলার। এর আগে জুন মাসে এই অর্থের পরিমাণ ছিল ২৮২ কোটি ডলার। টানা ছয় মাস প্রবাসী আয় ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি আসার পর হঠাৎ এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেশের ব্যাংকারদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, চলতি বছরের জুলাই মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। আগের বছরের একই সময়ে এই অংকের পরিমাণ ছিল ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। ফলে বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে গত ডিসেম্বর থেকে টানা ছয় মাস ধরে প্রবাসী আয় ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল, যা এখন কমে আসায় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডলারের জোগানের অন্যতম বড় উৎস রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ কমে যাওয়া অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে প্রবাসী আয় এসেছিল ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার ডলার। এর আগে এপ্রিল মাসে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং মার্চ মাসে প্রায় ৩৭৫ কোটি ডলার এসেছিল। এছাড়া ফেব্রুয়ারি মাসে ৩০২ কোটি ডলার, জানুয়ারি মাসে ৩১৭ কোটি ডলার এবং গত বছরের ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার প্রবাসী আয় দেশে এসেছিল। বর্তমানে প্রবাসী আয় সংগ্রহের ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংক শীর্ষে রয়েছে এবং এর পরেই বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের অবস্থান।
রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যাংকগুলো বেশি দামে প্রবাসী আয়ের ডলার কেনার পর বাংলাদেশ ব্যাংক তদারকি জোরদার করে, যার প্রভাব রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর পড়তে পারে বলে ব্যাংক কর্মকর্তারা মনে করছেন। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতিতে আসন্ন ধাক্কা সামলাতে শীর্ষ আট অর্থনীতিবিদ বাংলাদেশ ব্যাংককে রিজার্ভ ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বৈশ্বিক সংকট ঘনীভূত হলে রিজার্ভ ও ডলারের ওপর চাপ বাড়বে। এছাড়া সুদহার কমানোর বিষয়েও তারা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন, যদিও গত বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার কমিয়েছে, যা আজ থেকে কার্যকর হয়েছে।

















