চব্বিশের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) গণরুম, গেস্টরুম কিংবা ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচিতে বাধ্যতামূলক উপস্থিতির মতো সংস্কৃতি অনেকটাই বিলুপ্ত হয়েছিল। ক্যাম্পাসে জবরদস্তিমূলক ছাত্ররাজনীতি আর ফিরে আসবে না বলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে নতুন করে সংশয় দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি বিজয় চব্বিশ হল ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলের ম্যাসেঞ্জার গ্রুপের দুটি স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়।
ভাইরাল হওয়া একটি স্ক্রিনশটে দেখা যায়, শুক্রবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে হাবিপ্রবি ছাত্রদলের নতুন কমিটিকে সংবর্ধনা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বিজয় চব্বিশ হলের ২৪ ব্যাচের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত সময়ের আগে টিভি রুমে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনাটি দিয়েছেন হলের ২০২০ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, হলে অবস্থান করেও কেউ অনুষ্ঠানে অংশ না নিলে তা তার ব্যক্তিগত দায় হিসেবে বিবেচিত হবে। এছাড়া অন্য একটি স্ক্রিনশটে কৃষি ও যন্ত্রপ্রকৌশল বিভাগের ২৪ ব্যাচের এক শিক্ষার্থীকে হলের নিচে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানাতে দেখা যায়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, তাজমুল নামের এক শিক্ষার্থী আসতে বলেছেন এবং না এলে রাতে মিটিং দেওয়া হবে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, তাজমুল কৃষি অনুষদের ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি এহেসানুল কবির অর্ণবের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
গত ৭ জুলাই ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণার পর সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের অংশ হিসেবে ৯ জুলাই সভাপতি অর্ণব শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলে যান। শিক্ষার্থীদের দাবি, ওই সফরের সময় তাকে সংবর্ধনা দেওয়ার জন্যই এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কমিটি ঘোষণার পরপরই এমন বার্তায় উদ্বেগ জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বলছেন, রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া ব্যক্তিগত ইচ্ছার বিষয়, কিন্তু কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য করা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুকুনুর জামান বলেন, অতীতে কাউকে ছাত্রদল করতে বাধ্য করা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। তিনি দাবি করেন, ভাইরাল হওয়া স্ক্রিনশটের সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তাদের লক্ষ্য শিক্ষার্থীবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতি নিশ্চিত করা। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি রেজওয়ানুল হক বলেন, শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য করা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, জবরদস্তিমূলক রাজনীতি পরিহার করে ছাত্রদলকে শিক্ষার্থীদের স্বাধীন মতামতের প্রতি সম্মান জানানো উচিত।

















