ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন যে ইরান তার এক সন্তানকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। সোমবার ইসরায়েলের চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এমন বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। তবে এই কথিত হত্যাচেষ্টাটি ঠিক কখন ঘটেছিল, তার কোন ছেলেকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল কিংবা হামলাটি কতটা এগিয়েছিল—এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি।
সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, আমার ছেলেদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বেশ অবিশ্বাস্য। ইরান আমার এক ছেলেকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল এবং তাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। তাই আমার কাছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কোনো বিলাসিতা নয়। বর্তমানে নেতানিয়াহুর বড় ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে বসবাস করছেন, যে কারণে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের পর তার কোন ছেলেকে নিয়ে এই শঙ্কা তৈরি হয়েছিল তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি। এ বিষয়ে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে ইরানের মিশনের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের দুই মাস আগে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে নেতানিয়াহু এই বিষয়টি সামনে আনেন। তিনি জানিয়েছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের প্রধান ডেভিড জিনিকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, শিন বেতের প্রধান গাদি আইজেনকোটকে নিরাপত্তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন এবং নির্বাচন কর্তৃপক্ষকে বলেছিলেন যে তার ওপর হামলার কোনো ষড়যন্ত্রের তথ্য নেই।
উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। ওই সময় দুই দেশের মধ্যে ছায়াযুদ্ধের আবহে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। জনমত জরিপে বর্তমানে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পিছিয়ে রয়েছে এবং আইজেনকোটের দল নির্বাচনে ভালো ফলাফল করতে পারে বলে পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে ইসরায়েলের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সাধারণত কোনো একক দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় না, বরং জোট গঠনের মাধ্যমেই সরকার পরিচালিত হয়।

















